বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
জমাই মেলায় এক বিক্রেতা দোকানে মাছ সাজিয়ে রেখেছে। প্রবা ফটো
গ্রাম বাংলার প্রধান আকর্ষণ মেলা। পোড়াদহ মেলা বগুড়ার মানুষের কাছে কাঙ্খিত উৎসব। এবারও হরেক পদের মাছ, বাহারি ফল আর মুখরোচক মিষ্টি নিয়ে মাঘের শেষে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠানিকভাবে মেলার আয়োজন শুরু হয়েছে। জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ মেলায় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ছেলেবুড়ো, তরুণ-তরুণী আর নারী-পুরুষরা। তাদের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি হয়ে উঠেছে রঙিন। একদিনের এ মেলাকে ঘিরে আশপাশের গ্রামগুলোতে জামাই উৎসব চলে তিন দিন।
কথিত আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে পোড়াদহ এলাকায় এক সন্ন্যাসীর সাধনায় একটি মরা বটগাছ জীবিত হয়। এ কারণে ওই স্থানটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ পূজনীয়। ঘটনাটিকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর মেলার আয়োজন করা হয়। পূজারীদের পাশাপাশি এ মেলা এখন সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছের হাট। অনেকের কাছে পোড়াদহের মেলাটি মাছের মেলা হিসেবেও পরিচিত।
প্রতি বছর মেলায় বড় সাইজের বাঘাইড় মাছ উঠলেও মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এবার মাছটি বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এজন্য গত দুই বছর মেলায় বাঘাইড় মাছ দেখা যায়নি। তবে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, বিগ হেড, ব্লাড কার্প, আইড়, সিলভার কাপ ও কার্পসহ সামুদ্রিক নানা জাতের মাছ উঠেছে। বাঘাইড় মাছ না ওঠায় এবার অন্য মাছের দাম চড়েছে। মেলায় সবচেয়ে বড় সাইজের ব্লাক কার্প মাছের ওজন ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা হিসেবে মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ নিয়ে এসেছেন গাবতলীর গোলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি নাটোর থেকে ৪০ কেজি ওজনের ব্লাক কার্প মাছ এনেছি। এই মেলার সবচেয়ে বড় মাছটি আমার। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করতে চাই।’
সিরাজগঞ্জ এসেছেন মাছ বিক্রেতা বাচ্চু সরকার। তিনি বলেন, ‘৩০ কেজি ওজনের কাতল এনেছি। দাম ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি চাচ্ছি। দেখি দাম মিলে গেলে বিক্রি করে দিব।’
এছাড়া মেলায় রুই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, বোয়াল ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং আইড় মাছের দাম চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় মাছের আকৃতির ছোট বড় মাপের প্রায় বিশ রকমের মিষ্টি বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা হিসেবে ওই মিষ্টির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া কুল এবং কেশরসহ নানা স্বাদের ফলও উঠেছে মেলায়। এমনকি বিভিন্ন ধরণের ফার্নিচারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আকর্ষণ করছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পাঁচমাইল এলাকা থেকে এসেছেন আলাল উদ্দিন। তিনি জানান, মেলা উপলক্ষে তার মেয়ে এবং জামাইসহ নাতি-নাতনিরা এসেছেন। তাদের জন্য তিনি ১০ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে ৭ কেজি ওজনের একটি আইড় মাছ কিনেছেন।
নুরুল আমিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তার শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন এ মেলায় তিনি প্রতি বছর আসেন। অন্যান্য বছরের মত এবারও তিনি বিভিন্ন ধরনের ৫ কেজি মিষ্টি কিনেছেন।
পোড়াদহ মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এবারের মেলায় প্রায় দুই হাজার দোকান বসেছে। এর মধ্যে মাছের দোকান চার শতাধিক। এসব দোকানে কয়েক কোটি টাকার মাছ কেনা বেচা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে মেলা জমেনি। এবার করোনার কোন প্রভাব নেই। তাই মেলায় বিপুল লোক সমাগম হয়েছে।’