শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:১০ এএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:০৮ এএম
দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল। প্রবা ফটো
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শেরপুরে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার, পেট্রোল, অকটেনসহ নানা দাহ্য পদার্থ। অনুমোদিত পেট্রোলপাম্প ছাড়া পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিধান না থাকলেও সেটিই করছেন দোকানিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিক্রি চললেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদস্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয়। বিক্রির জায়গাটির ফ্লোর কমপক্ষে পাকাসহ আধাপাকা ঘর থাকতে হবে। প্রয়োজন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনপত্র, জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা ছাড়া ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগারও থাকতে হবে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে অনুমতি ছাড়াই ছোট-বড় বেশিরভাগ দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ।
সম্প্রতি শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে সার, কীটনাশক, মুদি, রড-সিমেন্ট, চা, পান, ফ্যাক্সিলোডের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। এমনকি কাঁচামালের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। সড়কের পাশে, ফুটপাথে কড়া রোদে ফেলে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। বেশিরভাগ দোকানে নেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দাহ্য পদার্থ হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেই কোনো তদারকি।
সব নিয়ম মেনে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করবেন দোকানিরা, এতে নিরাপদে থাকবেন ব্যবসায়ী, পথচারীসহ আশপাশের লোকজন-- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তবে ব্যবসায়ীরা জানান ভিন্ন কথা। লাইসেন্স সম্পর্কে কেউ অবগত না থাকায় তারা করেননি। ফলে যে যার মতো করে ঝুঁকি নিয়ে বিক্রি করছেন বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ।
সদর উপজেলার গাজীরখামার বাজারের আশরাফুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সার, কীটনাশকের ব্যবসার পাশাপাশি সিলিন্ডার ও পেট্রোল বিক্রি করি। আমার দোকানে ট্রেড লাইসেন্স আছে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনপত্র বা পরিবেশের কাগজপত্র লাগে তা জানতাম না। দ্রুত এসব কাগজপত্রের জন্য আবেদন করব।’
বাজিতখিলা বাজারের ‘বাচ্চু ডিজেল ও মবিল ঘরের এক কর্মচারীরা বলেন, পাম্প থেকে পেট্রোল কিনে বোতলে ভরে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করি। সড়কের পাশে রেখে বিক্রির বিষয়ে তারা বলেন, বাজারে আরও অনেক দোকানে পেট্রোল বিক্রি করে, যদি মানুষের চোখে বোতল না দেখা যায়, তাহলে বিক্রি হবে না। ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনপত্র, জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার ব্যাপারে তারা কিছু জাননে না বলেও জানান।
পৌরশহরেরর আখের মামুদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসআরডি আলম বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই দোকানিকে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। নীতিমালা মেনে ব্যবসা করতে হবে। সড়কের পাশে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রোলের বোতল বিক্রি করা বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির জেলা সহসভাপতি বাবু চক্রবর্তী বলেন, এসব সিলিন্ডার ও বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ একই দোকানে বিক্রি করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। বেশিরভাগ দোকানে নেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও। যাওবা আছে, জানেন না তার ব্যবহার। একেকটা সিলিন্ডার একেকটা বোমের মতো। তাই দোকানি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সম্মিলিতভাবে ঝুঁকি এড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে। এভাবে যত্রতত্র সিলিন্ডার ও পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দোকানিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিতে হবে, যেন চকবাজারের মতো ঘটনার কোথাও পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের শেরপুরের উপসহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মুহাম্মদ তারেক বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটসি ক্ষমতা না থাকায় ঠিকমতো তদারকি করতে পারছে না ফায়ার সার্ভিস। যত্রতত্র সিলিন্ডার ও পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিরুদ্ধে দ্রুতই জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে জনসচেতনতায় অগ্নিনিবারণ পদ্ধতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস বলেন, বিভিন্ন দোকানে অনুমোদন ছাড়াই গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রোল, অকটেনসহ নানা দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে, তা সম্প্রতি জানতে পেরেছি। দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। যত্রতত্র এসব বিক্রির বিষয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।