× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পদ্মা সেতু চালু হলে বদলে যাবে ভোমরা স্থলবন্দরের চিত্র

প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২২ ২৩:৫৪ পিএম

পদ্মা সেতু চালু হলে বদলে যাবে ভোমরা স্থলবন্দরের চিত্র

২৫ জুন চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু। বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ এই সেতু চালু হলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থলবন্দর হিসেবে নতুন মাত্রা পাবে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। সেতুটি সাতক্ষীরা জেলা ছাড়াও দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের সাথে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব বাংলাদেশের যেকোন বন্দর অপেক্ষা কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সুবিধাবোধ করেন। বর্তমানে বন্দরটিতে আমদানি ও রপ্তানি কাজে জড়িত রয়েছেন পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। আর প্রতিদিন এই বন্দর থেকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। বছর শেষে এই রাজস্ব আদায় দাঁড়ায় ১১০০কোটি টাকায়।

তবে বন্দর প্রতিষ্ঠা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বন্দরটিতে নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় আমদানিকৃত পচনশীল কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে পণ্যের উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

তবে পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভোমরা স্থলবন্দরের মাধ্যমে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হবে বলে ধারণা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

ভোমরা স্থলবন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা বলেন, সকাল হলেই আমদানি ও রপ্তানির বিভিন্ন কার্যক্রমে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মযজ্ঞ শুরু হয় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। সিএন্ডএফ এজেন্ট, কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিকমিলে ২০হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে বন্দরটিতে। বর্তমানে পণ্য আমদানির পর এখান থেকে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লাগে ১০-১২ ঘণ্টা। ফেরিতে অনেক সময় এর চেয়েও বেশি সময় লাগে। দুর্যোগের সময় ফেরি না পাওয়ায় এই নদীরপাড়েই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে করে ভারত থেকে আমদানিকৃত পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। আবার ঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পেরে পণ্যের উপযুক্ত দামও পাওয়া সম্ভব হয়না।

তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে জানিয়ে তারা বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হলে ভারত থেকে পণ্য আমদানির পর রাজধানীতে পৌঁছে যাবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিতে খরচও কমে আসবে বহুলাংশে। এতে পাল্টে যাবে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যের অতীত প্রেক্ষাপট।’

পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, ‘পদ্মার সঙ্গে তাদের কষ্টের স্মৃতির শেষ নেই। বর্তমানে মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ফেরিতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সময় লাগে ৪০মিনিটের মতো। সমস্যা হলো, ঘাটে গিয়েই ফেরিতে উঠার নিশ্চয়তা নেই। সময়মতো ফেরি না পাওয়ায় এই নদীর পাড়েই তাদের কেটে গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঝড়, বর্ষা, নদীর প্রবল স্রোতে কিংবা ঘন কুয়াশায় পদ্মার পাড়েই কেটে গেছে দিন-রাত।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হলে ভোমরা স্থলবন্দর থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সময় ৫-৬ ঘণ্টা কমে আসবে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, তেমনি যাত্রাও সহজ হবে।’

ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন বলেন, ‘কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরের চেয়ে কলকাতা থেকে ভোমরা স্থলবন্দরের দূরত্ব ২৪কিলোমিটার কম হবে এবং ভোমরা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে ঢাকার দূরত্ব ৩৪৫কিলোমিটার। সেখানে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকায় গেলে পথের দূরত্ব হবে ২২৫কিলোমিটার। সেই হিসেবে কলকাতা থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে ১৪৪কিলোমিটার পথ কমে আসবে। একইসাথে সময় ও পরিবহন খরচ অনেক কমে আসবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রের দামেও।’

ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে ভোমরা কাস্টমস হাউজের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় চালু হবে। এখানে কমিশনার বসবে। সব ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে ভোমরা বন্দর দিয়ে। সব মিলিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ভারত থেকে ৪০০পণ্যবাহী ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পদ্মা সেতু চালু হলে এসমস্ত আমদানিকৃত পণ্য ৫-৬ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাবে, যেখানে এখন ফেরিতে সময় লাগছে ১৫ থেকে ২০ঘণ্টা। ফেরিতে কখনো কখনো দিনের পর দিন বসে থাকা লাগে। কাঁচামাল পচে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবাধ কার্যক্রম শুরু হবে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। ভোমরা বন্দরের কিছু উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো হলে সকল পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজস্ব আদায়ও দ্বিগুণ হবে।’

ভোমরা স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোমরা স্থলবন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে ভোমরা বন্দরে ১৫একর জমির ওপরে কার্যক্রম চলছে। আরও ১০একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া বন্দরকে গতিশীল করা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি মাস্টারপ্ল্যানও হাতে নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এতে রাজস্ব আদায়ও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা