× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মায়ের গহনা বিক্রির টাকা স্বপ্ন পূরণের অনুপ্রেরণা

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:০৯ এএম

 মায়ের গহনা বিক্রির টাকা  স্বপ্ন পূরণের অনুপ্রেরণা

চেষ্টা থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো কখনও কঠিন হয় না; প্রমাণ করে দেখালেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার। কৃষক বাবা আর গৃহিণী মায়ের অনুপ্রেরণায় অন্য ভাই-বোনদের মতো তিনিও পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। শাম্মী এ বছর বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এবার বিজেএসসি পরীক্ষায় মোট ১০৩ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে শাম্মী ৬৩তম হয়েছেন। 

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার টাকা জোগাড় নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল তাকে। তবে হাল ছাড়েননি তার মা, নিজের গহনা বিক্রি করে মেয়েকে ভর্তি করান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ে।

শাম্মীর বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার গংগারামপুর গ্রামে। কৃষক কোরবান আলী ও রেনুফা বেগম দম্পতির ৯ সন্তানের মধ্যে তিনি অষ্টম। মা-বাবার আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় তার অন্য ভাই-বোনরাও উচ্চশিক্ষিত হয়েছেন। অভাবের সংসারেও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা। এখন শাম্মীর তিন ভাই-বোন তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ছাড়া এক ভাই সেনাবাহিনীতে এবং আরেক ভাই পুলিশে কর্মরত। আর এখন সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তবে শাম্মীর সাফল্য দেখে যেতে পারেননি তার বাবা।

শাম্মী আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার সাফল্যের জন্য আমার মায়ের অনুপ্রেরণা প্রধান। এই সাফল্যে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত, আবার একই সাথে দুঃখ ভারাক্রান্ত। কারণ আমার বাবা আজ নেই, তিনি আমার সাফল্য দেখে যেতে পারেননি।’

শাম্মী বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল তার মেজো বোন বিচারক হবেন। কিন্তু তিনি পড়াশোনা শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এতে তার বাবা কষ্ট পান। বাবার সেই কষ্ট দূর করতে এবং তার আইন পড়ার ইচ্ছা থেকেই আজকে এই সাফল্য।

শাম্মী জানান, রাজশাহীর তানোর উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। তিনি কলমা হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও শহীদ স্মৃতি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। এইচএসসি পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার মতো টাকা ছিল না শাম্মীর পরিবারের কাছে। এই দুর্দিনে শাম্মীর মা তার গহনা বিক্রি করে মেয়েকে কোচিংয়ে ভর্তি করান।

শাম্মী বলেন, ‘জীবনের লক্ষ্য স্থির করে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেলে শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব। নিয়মিত পরিশ্রম আমার বিচারক হতে সবচেয়ে কাজে লেগেছে। আমি নিয়মিত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করেছি। শেষের দিকে গ্রুপ স্টাডি করেছি, যেটি খুবই কাজে লেগেছে। ১৪তম বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভা থেকে বাদ পড়েছিলাম। এ ব্যর্থতা চরম হতাশা এনেছিল। কোনো কিছু না পাওয়ার মাঝেই হতাশা থাকে। আমিও ব্যতিক্রম ছিলাম না। তবে কঠিন সময়গুলোতে আম্মুকে পাশে পেয়েছি।’ 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম তোহা বলেন, ইচ্ছা থাকলে কোনো বাধা সাফল্যকে রোধ করতে পারে না; তার প্রমাণ শাম্মী। তার এই সফলতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে। তাকে বিভাগের পক্ষ থেকে শুভ কামনা জানান তিনি। শাম্মী সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা তার।



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা