নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:০৮ পিএম
নাটোরে পদযাত্রায় হামলায় আহত বিএনপি নেতা। প্রবা ফটো
নাটোর সদর, নলডাঙ্গা, সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলায় বিএনপির পদযাত্রায় হামলা, বিএনপির সমাবেশ স্থলে পাল্টা সমাবেশ এবং হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের দিয়াড় মাদ্রাসাঘাট এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা শেষে ফেরার আগেই পদযাত্রা মঞ্চ দখল করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
এ ছাড়া সদর উপজেলার পীরগঞ্জ বাজারে সকালে বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে সমাবেত হতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। এ সময় প্রায় পাঁচজন আহত হন।
নলডাঙ্গায় হামলায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ মাধনগর ইউনিয়ন ও পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সকালে মাধনগর ও পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে এ হামলা চালানো হয়। আহতদের নাটোর শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে সিংড়ার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের কৈগ্রাম এলাকায় বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গুরুদাসপুরের খুবজিপুর ও ধারাবারিষা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের দিয়াড় মাদ্রাসাঘাট এলাকা থেকে ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন। ছাতনী উচ্চবিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই পেছনের রাস্তা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে গিয়ে বিএনপির পদযাত্রা মঞ্চ দখল করেন। এর পর সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শান্তি সমাবেশ শুরু করেন।
শান্তি সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল সরকার, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এমরান সরকার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ছাতনী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে শান্তি সমাবেশ শুরু করে। তাই সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বটতলা মোড়ে বিএনপি কর্মসূচি দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্ধারিত স্থান থেকে উঠে এসে তাদের মঞ্চ দখল করে সমাবেশ করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাউকে বাধা দেননি। কিন্তু বিএনপির পদযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হাবুর মোড়, পণ্ডিতগ্রাম ও বারঘরিয়া মোড়ে অবস্থান নেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘বিএনপি কর্মসূচি পালন করবে না বলে গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে কথা দিয়েছিল। তাই আমরা বটতলায় কর্মসূচি দিইনি। কিন্তু তারা (বিএনপি নেতা-কর্মী) যখন জেলার নেতাদের এনে কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে, তখন আমরা বটতলায় না এসে পারিনি। তবে বিএনপির কাউকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হয়নি।’
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।
এদিকে হামলায় নলডাঙ্গায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ মাধনগর ইউনিয়ন ও পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সকালে মাধনগর ও পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চালানো হামলায় তারা আহত হন। তাদের নাটোর শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ওসি আবুল কালাম জানান, বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। কেউ আহত হননি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তোজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।
অন্যদিকে দুপুরে সিংড়ার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের কৈগ্রাম এলাকায় বিএনপি পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলা চালায়। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া চৌগ্রাম ও ইটালী ইউনিয়নেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ১১টায় পদযাত্রা শুরু করে বিএনপি। দুপুর ১২টার দিকে পদযাত্রায় রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের কৈগ্রাম বাজারে পৌঁছালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব চয়েন উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া চৌগ্রাম ইউনিয়নে রাকিব হোসেন, ইটালী ইউনিয়নে হুজুর আলী, বেলাল হোসেন, বাচ্চু আহমেদ, ইউসুফসহ মোট সাতজন নেতা-কর্মীকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর কোনো হামলা করা হয়নি। তারা শুধু শুধু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদ বলেন, সিংড়ার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব চয়েন উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া ইটালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ থেকে বিএনপির পদযাত্রায় হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিংড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।