× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুরো পিরোজপুরে নোনাপানি

পিরোজপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৫৪ পিএম

সিডরের পর থেকে উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে সুপেয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

সিডরের পর থেকে উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে সুপেয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুর মূলত মিষ্টি পানির জেলা। সে সুপেয় পানির স্বাদের কথা প্রায় ভুলেই গেছে মানুষ। সিডরের জলোচ্ছ্বাসে এ এলাকায় ব্যাপক জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। জনপদে প্রবেশ করে লবণ পানি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লবণাক্ততার কারণে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা আগে কখনও হয়নি। এর আগে থেকেই ছিল পানিতে আর্সেনিক সমস্যা। লবণ পানি কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিবছর। দুঃশ্চিন্তায় এলাকাবাসী, সহসা কোনো পরিত্রাণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

২০০৭ সালের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে এ জেলার সর্বত্র নোনা পানি প্রবেশ করে। এতে কিছু স্থানে তৈরি হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার ধান উৎপাদন, মরছে গাছপালা, কমেছে পাখি। স্থানীয়দের মতে, জোয়ার ভাটাতেও দেখা দিয়েছে পরিবর্তন। আগে ভাটায় পানি নেমে গেলেও সিডরের পর পানি লবণাক্ত হওয়ায় সহজে সমুদ্রে নেমে যেতে পারে না। এর ফলে এলাকার নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি হয়ে পড়েছে লবণাক্ত।

জেলার নদী নির্ভর পানির প্লান্টগুলোতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব। আর্সেনিকের পাশাপাশি টিউবওয়েলের পানিতেও দেখা দিয়েছে লবণাক্ততা। মানুষ আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রকমের চর্মরোগ। কংক্রিটের নির্মাণসামগ্রী আগের চেয়ে দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মাহাতাব হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই এই বলেশ্বরে গোসল করেছি, মাছ ধরেছি। আগে নদীর গভীরতা ছিল অনেক বেশি। পারাপার করতে ভয় পেতাম। কিছুদিন যাবৎ দেখছি পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। এই পানি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পৌরসভার খাবার পানিতেও লবণ। আমাদের শরীরে চামড়ার রঙ কালো হয়ে গেছে। লবণের কারণে মাটির উর্বর শক্তি কমে গেছে।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এ পানি দিয়ে রান্না ও খাওয়া চালাতে হয়, কোনো উপায় তো নাই।’

কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফাল্গুন-চৈত্র মাসে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। আগে এ পানি ব্যবহার করে আমরা যে চাষাবাদ করেছি সেটি বর্তমানে হুমকির মুখে। রবিশস্যসহ নারকেল সুপারি আগের মতো ফলে না। দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের।’

চা বিক্রেতা মতিন হাওলাদার বলেন, ‘পানিতে লবণ থাকায় মানুষ চা খেতেই চায় না। স্বাদহীন লাগে সবকিছু। শাক-সবজিতে স্বাদ নাই। রঙের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে মানুষের শরীর থেকে ফসল, ঘাস-লতাপাতায়।’

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে একটি গভীর টিউবওয়েল আছে, যার পানি মোটামুটি পান করা যায়। এ পানি নিয়েই মানুষ ব্যবহার করে। দিন যতই যাচ্ছে ততই পানির লবণাক্ততা বাড়ছে। এ ছাড়া পেট খারাপসহ বিভিন্ন অসুখে ভুগছে স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধরা।

রঙমিস্ত্রি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ভবন নির্মাণে যে পানি ব্যবহার করা হয় তাতে অনেক লবণ। যার কারণে ভবনের পলেস্তারা খুলে পড়ে। রঙ টিকে না দেয়ালে। কয়েক দিনের মধ্যেই ভবন সব নষ্ট হয়ে যায়।’

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘লবণাক্ততা দুই রকমের। একটি পানির, অপরটি মাটির। শীতে লবণাক্ততা মটিতে কম থাকলেও পানিতে বেশি থাকে। তবে মাটির লবণাক্ততা ফসলের ওপর প্রভাব কম পড়ে। তবে বৃক্ষজাতীয় যা আছে তার ওপর লবণাক্ততার প্রভাব কিছুটা আসে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে প্লাবিত হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

পিরোজপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আলীম গাজী বলেন, ‘সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় লবণাক্ততা ও আর্সেনিক সমস্যা দেখা যায়। টিউবওয়েলের পানিও লবণাক্ত থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা করছি। অন্যান্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লবণ, আয়রন এবং আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা