হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
হবিগঞ্জ ট্রমা সেন্টার। ফাইল ফটো
দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে হবিগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ট্রমা সেন্টার নির্মাণ হলেও ১০ বছরেও চালু হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিক চালু না হওয়ায় অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়াসহ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহতরা। তবে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর সমাধান হবে।
২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় হবিগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবলে ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার। বাহুবল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। এটি বাস্তবায়ন করে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ।
ভবনটি গ্রহণের জন্য ২০১৪ সালে জানুয়ারি মাসে হবিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেয় গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু সেই সময় ভবন নির্মাণে অনিয়ম, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় সেটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে দুই বিভাগের চিঠি চালাচালি ও ফাইল বন্দিতে কেটে গেছে ১০ বছর। বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার বাবুল কুমার দাশ বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে বারবার চিঠি লিখেও তাদের কাছ থেকে ভবনটি বুঝে পাইনি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি আমরা জানিয়েছি।
হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভবনটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ভবনটি পরিদর্শনকালে নানা ধরনের সমস্যা দেখতে পান। সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের মাসিক সভায় রেজল্যুশন করে ভবনটি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় কমিটি করে হস্তান্তর করা হবে।
নবিগঞ্জ-বাহুবল আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ মিলাদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের দূরত্বের কারণে এমনটি হয়েছে।