প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
নরসিংদীর রায়পুরায় বিপ্লব ও মনির হত্যার আসামি মামুনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
পিবিআই তদন্তে জানা যায়, বিপ্লব একাধিক হত্যা মামলার আসামি। মনির তার বডিগার্ড ছিলেন। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করলেও বিপ্লবের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। ডিস ব্যবসায়ী মামুনসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিপ্লব হত্যার পরিকল্পনা করে। সম্প্রতি বিপ্লব ও তার সহযোগী মনিরকে মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামুনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পিবিআই প্রধান বলেন, ‘২০১৯ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় দুলাল গাজী নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার মামলায় প্রধান আসামী ছিলেন বিপ্লব। কিন্তু মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পেত না। কিছুদিন পরে হত্যা মামলার বাদী দুলাল গাজীর ছেলে রবিন গাজী একটি ঘর পোড়ার মামলায় ছয় মাস জেল খাটে। পিবিআই ওই হত্যা মামলার তদন্ত করে ও বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে। এর পর অনেকে বিপ্লবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে। হত্যার ঘটনায় চার ব্যক্তি বিপ্লবের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দেয়। কিন্তু বিপ্লব জেল থেকে বের হওয়ার দিন সাক্ষীদের দুইজন জুয়েল ও নাইমকে এলাকায় ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’
বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, ‘এমন কর্মকাণ্ডে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়। এর মধ্যে বিপ্লবের সঙ্গে ডিসের ব্যবসা করা মামুন মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা একাধিকবার বিপ্লবকে হত্যা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে নরসিংদীর শিবপুরের এটাখোলা এলাকায় বিপ্লব ও মনিরের মোটরসাইকেলকে মামুনের নেতৃত্বে একটি মাইক্রোবাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে বিপ্লব ও মনির মারা যায়। ঘটনাটিকে তারা সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ একটি দুর্ঘটনার মামলা করে। সে অনুযায়ী পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দেয়।’
পিবিআই প্রধান বলেন, ‘আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, যে মাইক্রোবাসটি দিয়ে চাপা দেয়া হয়েছিল তাতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিল। সাধারণত দুর্ঘটনার পরে চালক পালিয়ে যায়। কিন্তু এখানে কোনো যাত্রী পালিয়ে যায়নি। এরপর তদন্ত করতে গিয়ে মামুন ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকে মামুনের নেতৃত্বে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া, মাসুম, সোহাগ ও মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেয়। তারা আদালতে দায় স্বীকার করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ হত্যায় নয়জন জড়িত ছিল। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থদাতা হিসেবে ওমর ফারুক মোল্লা নামে এক প্রবাসীর নাম পাওয়া গেছে। তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। আগামী সপ্তাহে নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।’