প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২২ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২ ১০:৩১ এএম
মাহমুদা বেগম
একদিনের ব্যবধানে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগমকে আবারও বদলি করা হয়েছে। এবার তাকে বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রামে। শনিবার নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বুধবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. খবিরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মাহমুদাকে কেন্দুয়ার পাশের উপজেলা মদনে বদলি করা হয়েছিল।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব কে এম আল-আমীনের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে মাহমুদা বেগমকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়ার বলাইশিমুল গ্রামে ১ একর ৮৭ শতক জমির মধ্যে খেলার মাঠের ৪৬ শতক জায়গা কান্দা শ্রেণিতে পরিবর্তন করে সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে মাহমুদা বেগম আলোচনায় আসেন।
ওই মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় আট বাসিন্দা বাদী হয়ে গত ৩০ মে আদালতে একটি মামলা করেন।
গত ২ জুন রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন দুটি ঘরের গাঁথুনি ভেঙে দেওয়া হয়। পরের দিন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে ১৯ জনের নামে মামলা করেন। এরপর পুলিশ পাহারায় ঘরের নির্মাণকাজ চলে। স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২৩টি ঘরের মধ্যে ১১টি সরিয়ে নেন। মাঠের পশ্চিম পাশ দখলমুক্ত করে ২৪ শতক জায়গায় ১২টি ঘর বানানো হয়।
১৩ আগস্ট ভোরে সেখানকার দুটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন।
ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মাহমুদা বেগম আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ কয়েকজনকে দোষারোপ করেন। এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে তিনি এসব জেনেছেন বলে উল্লেখ করেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সবার বিরুদ্ধে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
ওই সংবাদ সম্মেলনে ইউএনওর বক্তব্যের ভিডিও দৈনিক সংবাদ ও ডেইলি অবজারভারের উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। পরে ইউএনও ওই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। এরপর জেলা প্রশাসক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
১৯ আগস্ট বলাইশিমুল ঈদগাহে ইউনিয়নের ২৮ গ্রামের বাসিন্দাদের বৈঠকে ইউএনও মাহমুদা বেগমকে বলাইশিমুল ইউনিয়নে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে অপসারণের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
প্রবা/এইচকে /এসআর