নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:২১ পিএম
অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন নীলফামারীর চার সন্তানের জননী মারুফা আক্তার (ডানে)। প্রবা ফটো
অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন নীলফামারীর চার সন্তানের জননী মারুফা আক্তার। ১৫ বছর সংসার জীবন অতিবাহিত করে হাতে নেনে খাতা-কলম। প্রতিবেশীর ঠাট্টা-বিদ্রুপ উপক্ষো করে মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ৪.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে মেয়ের ফল খারাপ হওয়ায় আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
মারুফা নীলফামারীর ডিমলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের পূন্যারঝাড় গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মারুফা আক্তারের বিয়ে হয় ২০০৩ সালে। সে সময় দশম শ্রেণিতে পড়তেন মারুফা। দীর্ঘ সময় সংসার জীবনের পরও মারুফার লেখাপড়ার ইচ্ছা দমেনি। দারিদ্রের কারণে নিজের মেয়েকেও দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দিতে বাধ্য হন সাইদুল দম্পতি।
মারুফা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ডিমলা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। সমাজের আর দশটা মানুষের মতো তিনিও নিজেকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চান। মারুফার আশা পুরণ হয়েছে, তবে মেয়ের ফল খারাপের কারণে কিছুটা হলেও মন খারাপ। এদিকে মারুফার এ ফলাফলে পাড়া-প্রতিবেশীও খুশি।
অদম্য ইচ্ছা ও সুপ্ত বাসনা পুরণ করতে স্বামীর উৎসাহে মেয়ের সঙ্গে মারুফা ছোটখাতা ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন নবম শ্রেনীতে। ২০২০ সালে মেয়েসহ এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মারুফা। এমনকি মেয়ের চেয়ে ভালো ফলাফল করেন তিনি।
এরপর ভর্তি হন একাদশ শ্রেণিতে। সারাদিনের পরিশ্রমের পর গভীর রাত ও ভোরে উঠে লেখাপড়া শুরু করেন মারুফা। সেই পরিশ্রমের ফল আজ মারফার হাতে এসেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, অদম্য ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। মারুফা জানান, উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, চরম দারিদ্রের মাঝেও প্রত্যন্ত গ্রামের মারুফা এসএসসিতে শুধু পাসই করেনি, তিনি তার মেয়ের চেয়ে বেশি নাম্বার পেয়েছেন। এবারও তার পরিবর্তন হয়নি। মেয়ে পাশ না করলেও তিনি ভালো নম্বর পেয়ে পাস করেছেন। উচ্চ শিক্ষায় লেখাপড়ার সুযোগ পেলে আমরাও তার পরিবারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।’
মারুফার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবাই লেখাপড়া করে। বড় মেয়ে শাহী সিদ্দিকা এইচএসসি পরীক্ষার্থী, দ্বিতীয় ছেলে দশম শ্রেণিতে, তৃতীয় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।