× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিন বছরের কাজ হয়নি ১২ বছরেও

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫০ পিএম

খুলনা-মোংলা রেলপথ। ফাইল ফটো

খুলনা-মোংলা রেলপথ। ফাইল ফটো

খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম মেগা এই প্রকল্পটির মেয়াদ ফের ছয় মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। ২০১০ সালে তিন বছর মেয়াদে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কয়েকবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালে ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শতভাগ কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করে কর্তপক্ষ।

তবে এ পর্যায়ে আর নতুন করে ব্যয় বাড়ছে না বলে নিশ্চিত করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ফের পিছিয়ে গেল খুলনা-মোংলা রেললাইনে ট্রেন চলাচল। 

খুলনা-মোংলা রেললাইনের প্রকল্প কর্মকতা (পিডি) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি প্ল্যানিং কমিশনে রয়েছে। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন হওয়ার পর খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের বাকি কাজ শুরু হবে। আশা করা যায় এ বছরের জুনের মধ্যেই এ প্রকল্পের ভৌত কাজ শেষ হবে। এরপর জুলাই-আগস্ট থেকে এ অঞ্চলের মানুষের বহু কাঙ্ক্ষিত রেললাইনে ট্রেন চলাচল করবে বলেও জানান তিনি।

আরিফুজ্জামান আরও বলেন, খুলনা-মোংলা রেললাইনের ৯৭ ভাগ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রুট (দূরত্ব) ৬৫ কিলোমিটার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। আর ট্র্যাক ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে তিন বছর মেয়াদে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কয়েকবার নকশা পরিবর্তন হওয়ায় এর মেয়াদ ও প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে। প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে চার হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রেললাইনের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে রেললাইনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুলনার রূপসা নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শতভাগ শেষ হয়েছে। 

খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, প্রকল্পের প্রধান কাজ ছিল ৭৭৬ দশমিক ৬৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ, খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার মেইন লাইন নির্মাণ, ২১ দশমিক ১১ কিলোমিটার লুপ লাইন, আটটি রেলস্টেশন তৈরি, ৩১টি ছোটবড় সেতু নির্মাণ, ১১২টি কালভার্ট, রূপসা নদীর ওপর ৭১৬ দশমিক ৮০ মিটার সেতু নির্মাণ, রূপসা সেতুর দুই প্রান্তে ভায়াডাক্ট (উড়ালপথ) নির্মাণ, ২০০ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ করা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহন সাশ্রয় ও সহজ করতে খুলনার ফুলতলা রেলস্টেশন থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু হলে মোংলা বন্দরের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্বিগুণ প্রসার ঘটবে।

এ ছাড়া খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ হলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে খুলনাসহ সারা দেশের রেল সংযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পদ্মা রেল সেতু চালু হলে মোংলা থেকে মালামালবাহী ট্রেন খুলনা-যশোর হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি ঢাকায় যাবে। এতে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তাই শিগগিরই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন তিনি। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা