খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:৩০ এএম
মরিয়ম মান্নান। ফাইল ছবি
খুলনায় মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগমের বহু আলোচিত ‘আত্মগোপনের’ ঘটনার তদন্ত শেষে সেটি অনুমোদনের জন্য পিবিআই সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলেই সেটি আদালতে দাখিল করা হবে। পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই সূত্রের দাবি, এই অপহরণ মামলার তদন্ত কাজ শেষ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে অপহরণ নয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার দুই মেয়ে মরিয়ম মান্নান ও আদুরি আকতার অপহরণের এই নাটক সাজিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মরিয়ম মান্নানের পরামর্শে রহিমা বেগম আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তাকে নিয়মিত টাকাও পাঠাতেন মরিয়ম।
খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, আশা করা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের পর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা যাবে।
গত বছরের ২৭ আগস্ট রাতে খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ি থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হন। তাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে পরদিন মেয়ে আদুরি দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী ৫ জনকে আটক করে র্যাব ও পুলিশ। তবুও রহিমার খোঁজ মিলছিল না।
এক পর্যায়ে মায়ের খোঁজ দেওয়ার দাবিতে তার মেয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেত্রী মরিয়ম মান্নান ও পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, পোস্টারিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মাকে ফিরে পেতে মরিয়মের আহাজারি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এক পর্যায়ে ২২ আগস্ট মরিয়ম ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশ তার মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরদিন ফুলপুর থানায় গিয়ে লাশটি তার মায়ের বলে শনাক্তও করেন মরিয়ম। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা রহিমাকে উদ্ধার করে। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস খুলনায় রহিমার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, রহিমা বেগম গত ২৭ আগস্ট রাতে তার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল ঘটক ওরফে বেল্লাল হাওলাদারের সহযোগিতায় ঢাকায় চলে যান। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মেয়ে মরিয়মের কাছে ছিলেন। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর চলে যান বান্দরবান। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বান্দরবানে তিনি রিজিয়া বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ছিলেন। ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই এলাকার মনি বেগমের ভাতের হোটেলে ১ হাজার টাকা বেতনে কাজ নেন এবং তার বাড়িতেই থাকেন। পরে একটি অফিসে কাজের জন্য গেলে তারা রহিমার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন চান। এতে ভীত হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর রহিমা ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে যান। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভুয়া নাম এবং বাড়ি বাগেরহাট উল্লেখ করে জন্মনিবন্ধনেরও চেষ্টা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত রহিমা বোয়ালমারীতে ছিলেন।