প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:২৮ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৪ পিএম
রাজশাহীতে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক বৃদ্ধ। প্রবা ফটো
করোনা টিকার ভায়াল বা শিশির গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া ২০২২ সালের নভেম্বর। রাজশাহীতে চলতি ফেব্রুয়ারিতে সেই টিকা দেওয়ায় টিকাগ্রহণকারীরা অভিযোগ তুলেছেন। তবে শিশিতে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ থাকলেও ব্যবহারে কোনো সংশয় নেই বলে দাবি করেছেন রাজশাহী সিভিল সার্জন।
গত ২০ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও করোনার চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিকে চতুর্থ ডোজের জন্য তেমন চাহিদা না থাকলেও সময়ের ব্যবধানে এখন প্রতিটি কেন্দ্রেই টিকা নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। এখন দেওয়া হচ্ছে ফাইজারের টিকা।
রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিভাগের ৮ জেলায় করোনার টিকা নিয়েছেন ২৩ হাজার ৩৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৯৭৪ জন এবং নারী ১০ হাজার ৩৬০ জন।
এ দিন রাজশাহীতে করোনার টিকা নেন ৫ হাজার ৪৪৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৩৭৮, নওগাঁয় ৭২৫, নাটোরে ১ হাজার ৪৫১, জয়পুরহাটে ৭৯০, বগুড়ায় ৩ হাজার ২৯৬, সিরাজগঞ্জে ৪ হাজার ৭৩১ জন এবং পাবনায় নিয়েছেন ৫ হাজার ৫১৬ জন।
টিকা নিতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পান টিকার মেয়াদ শেষ। এতে ঘাবড়ে যান টিকাগ্রহণকারীরা। তারা অভিযোগ করেন, তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘ফাইজারের ভ্যাকসিনের গুণগত মান ঠিক আছে। বাংলাদেশ সরকারের ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন থেকে এটা পরীক্ষা করে দেখে আমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণের তিন মাস পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে এই টিকা।’
সিটি করপোরেশন এলাকায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালসহ ৬টি কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। শুরুর দিকে চাহিদা কম থাকলেও দিন যত যাচ্ছে চতুর্থ ডোজের চাহিদা বাড়ছে।
সোমবার সিটি করপোরেশন এলাকার ২ হাজার ৪২৫ জনকে চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া হয়।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘ভ্যাকসিনের প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ডেট। কিন্ত সেই ডেট বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি সমস্ত উপজেলায় দেওয়া হয়েছে। তারিখ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই এই তারিখ বাড়িয়েছে।’
গত বছরের ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. শামসুল হকের সই করা এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনার চিঠি প্রকাশ করা হয়। চিঠিকে ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে বর্ধিত মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘যেসকল টিকার ভায়াল/বক্সের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ রয়েছে, সেসব টিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৭০ দিনের মধ্যে, অথবা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের মধ্যে যে তারিখ আগে আসে সেই তারিখের মধ্যে উক্ত টিকা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ দিয়ে টিকার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ফাইজার টিকার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০২২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।