সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
সিরাজগঞ্জের চৌহালীর বিনাইন মরা নদীর ওপর নির্মিত সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আচে। প্রবা ফটো
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় প্রায় দেড় বছর আগে ২ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি সেতু। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। সংযোগ সড়ক না থাকায় আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সেই পুরোনো ভোগান্তি আজও শেষ হয়নি। ঠিক কবে নাগাদ সেতুটি মানুষ ব্যবহার করতে পারবে সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারে না কেউ।
কর্তৃপক্ষ শুধু বলছে, শিগগিরই বক্স কালভার্টসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকার কারণে জেলা শহর থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন নদীভাঙন কবলিত চৌহালী উপজেলা। এতে এই উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। আর নির্দিষ্ট কিছু পথ আর ব্যবস্থা ছাড়া এ উপজেলার অন্য কোনো যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়াও বেশ কষ্টসাধ্য।
চৌহালী এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনাইন মরা নদীতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বাঘুটিয়া ও উমারপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের নাগরপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, আরিচাসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত সুবিধার জন্য ‘বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ২৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৫০ টাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান র্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের চুক্তি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর বিনানই মরা নদীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেতুটি ২০২১ সালের নভেম্বরে নির্মাণ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সংযোগ সড়ক কেন নির্মাণ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে চৌহালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ মিটার বক্স কালভার্টসহ দুই পাশের অ্যাপ্রোচ নির্মাণের প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।