বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩২ পিএম
বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাকের পার্টির নেতারা। ছবি : প্রবা
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সম্প্রতি বগুড়ার দুটি আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জাকের পার্টির দুই প্রার্থীর পক্ষে অল্প ভোট দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দলটির বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন করা ফয়সাল বিন শফিক রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানেরও ঘোষণা দেন তিনি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন হয়। বগুড়া-৪ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরদার ৪ হাজার ৬৪ ও বগুড়া-৬ আসনে ফয়সাল বিন শফিক ৪১৭ ভোট পান। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় উভয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রচলিত ব্যালটে অথবা হ্যাকিংমুক্ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্লক চেইন টেকনোলজি এবং ই-ভোটিং প্রবর্তনেরও দাবি জানান ফয়সাল বিন শফিক। এ সময় জাকের পার্টির বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসন থেকে প্রতিযোগিতা করা আব্দুর রশিদ সরদারসহ দলটির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফয়সাল বিন শফিক জানান, বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝে হতাশা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে জাকের পার্টির নেতাকর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ’জাকের পার্টি একটি বড় রাজনৈতিক দল। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর পাশাপাশি বহু ভক্ত রয়েছে। তারা জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে ভোট দিতে উন্মুখ ছিলেন।’
জাকের পার্টির এই নেতা ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয় প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের সময় ভোটাররা আমাদের জানান যে তারা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিলেও তা অন্য প্রতীকে চলে যাচ্ছে। এভাবেই বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনে জাকের পার্টির দুই মনোনীত প্রার্থীর ভোট স্বল্প কোটায় রাখা হলো।’
সংবাদ সম্মেলনে জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান জানান, ‘তারা দলগতভাবে ইভিএমে ভোটের বিরোধী। এর আগে দলের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তাকে অবহিত করেন এবং ইভিএমের পরিবর্তে ই-ভোটিং পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছিলেন।’
এ ছাড়া এ নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ করেছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।
বগুড়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী জাসদ নেতা রেজাউল করিম তানসেনের কাছে ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন হিরো আলম।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকে হিরো আলম অভিযোগ করে আসছেন, তাকে জোর করে হারানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।