নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:০৬ পিএম
নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনেকে পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। প্রবা ফটো
নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে জমি চাষ, আইল ঠিক করা, সেচ দেওয়া, বীজতলা থেকে চারা উঠানো, রোপনসহ নানা কাজ। বিগত বছরগুলোতে জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা দামও পেয়েছেন ভালো। তাই এবারও বোরো চাষে ঝুঁকছেন তারা। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪৯ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ ভাগ অর্থাৎ ২৫ হাজার ৪ শত ৯২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। বোরো ধান রোপনের মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। পাশাপাশি এবার বাম্পার ফলনেরও আশা করছেন তারা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশাবদা ব্যক্ত করছেন স্থানীয় কৃষকরাও। তারা জানান, গত বছর ভালো ফলন ও দাম পেয়েছেন। তাই এবার দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারাও।
সম্প্রতি জেলার চরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজ। কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ, ডোবা ও নদীতে পাম্প বসিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা, কেউ রোপণের জন্য জমিতে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ জমিতে হাল চাষ করছেন, কেউ জমির আইল ঠিক করছেন। কেউ আবার সেচের জন্য ড্রেন বা পাম্পের জন্য ঘর নির্মাণ করছেন। অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। জৈব সার ছিটাচ্ছেন কিউ কেউ।
সদর উপজেলার মহিষাশুরা এলাকার বোরো চাষি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর বোরো চাষ করে দাম ভালো পেয়েছিলাম। এবারও সেই আশায় সাড়ে সাত বিঘা জমি বোরো চাষের জন্য প্রস্তুত করেছি। দুই তিন দিনের মধ্যেই ধান রোপনের কাজ শেষ করতে পারব।
তবে চলতি বছরে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সেচ পাম্পের সংযোগ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার অনেক কৃষক। তা ছাড়া শ্রমিকে মজুরি ও সারের দাম বেড়েছে। করিমপুর এলাকার শুক্কুর আলী নামে এক বর্গা চাষি বলেন, ‘গত বছর ৮ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। চাষাবাদ খরচ ও সারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এবছর মাত্র ৩ বিঘা জমিতে চাষ করছি।’