শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৯ পিএম
বিক্রি করে দেওয়া ঘর। প্রবা ফটো
শেরপুরের নকলায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দুর্যোগসহনীয় ঘর বিক্রি করেছেন এক উপকারভোগী। জমিসহ ঘরটি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যে ব্যক্তি উপহারের ঘর বিক্রি করেছেন তার নাম শহিদুল ইসলাম। এটি কিনেছেন স্থানীয় হাসনা বেগম ওরফে বিউটি।
শহিদুলের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘জমি ও ঘর ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। আমরা না জেনেই ঘরটি বিক্রি করেছিলাম। এখন টাকা ফিরিয়ে দিয়ে জায়গা ও ঘর আমরাই রাখব।’
ক্রেতা হাসনা বেগম ওরফে বিউটি বলেন, মালিক জায়গা বিক্রি করেছে বলেই কিনেছি।
সরকারি স্থাপনা আছে জেনেও কেন ঘরটি কিনলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কাগজপত্র সবকিছু দেখে ঠিক পেয়েছি। তাই ৪ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছি। আমার তো কোনো দোষ নাই।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এ ঘরটি বরাদ্দ পান নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের হাতেম আলী। ঘরটিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। হাতেম আলীর মৃত্যুর পর তার ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম স্ত্রী মোর্শেদা বেগমকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি জমিসহ সাফ কবালায় সরকারি ঘরটি বিক্রি করে দেন।
বিষয়টি জানতে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শামিম মিয়া বলেন, ঘরটি পাইয়ে দিতে সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। শহিদুল গোপনে জমি ও ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। এটা তো শুধু অন্যায় না, সরকারের বদনাম। তাই তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
নকলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাকে ঘর বিক্রির বিষয়টি জানালে দুই পক্ষকেই না করেছিলাম। পরে আর আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। আজকে শুনলাম গোপনে জমি ও সরকারি ঘর বিক্রি করে দিয়েছে। এটি অন্যায়। তার জায়গা এটা ঠিক আছে, কিন্তু সরকারি ঘর বিক্রি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘর বিক্রির তথ্যটি আপনার মাধ্যমেই জানলাম। যদি এমন কেউ করে থাকে তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’