নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৪২ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:২৮ পিএম
শ্রুতির অনুষ্ঠানে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকার জন্য কফিল আহমেদকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রবা ফটো
‘রা করিয়ে দাও সকলেরে সকল প্রকারে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে নারায়ণগঞ্জে শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির ৩১তম বর্ষপূর্তি ও ‘রনজিত উৎসব’ উদযাপন করা হয়েছে। এ সময় প্রবর্তিত ‘রনজিত পুরস্কার ২০২৩’ এ ভূষিত করা হয় প্রাণ-প্রকৃতির সংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ।
শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়।
এবার সংগীতে স্বতন্ত্র ধারা উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকার জন্য কফিল আহমেদকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি শ্রুতির ১৫তম পুরস্কার। রনজিত পুরস্কারের নগদ অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে একটি সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এর আগে শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য দেশের ১৪ জন গুণীকে এই পুরস্কারে ভূষিত করে এই সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানে রনজিতের কথা আমরা বলছি। রনজিত আজকে শারীরিকভাবে নাই। কোন ব্যক্তি যদি সমষ্ঠির সঙ্গে যুক্ত থাকে। সমষ্টির চিন্তার সঙ্গে ও ভাবের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে তার কাজের মধ্য দিয়েই তিনি জীবিত থাকেন। তার মৃত্যু হয় না। সেজন্য এই অনুষ্ঠানে রনজিৎ অনেক বেশী উপস্থিত আমাদের সঙ্গে।
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে যারা প্রতিবাদ করবেন আওয়াজ তুলবেন এবং চিন্তা প্রকাশ করবেন তারাই হচ্ছেন এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। বর্তমানে কফিল আহাম্মেদ হচ্ছেন সেই ধরনের একজন মানুষ। এই সময়ের আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধান অলম্বন। কফিল আহাম্মেদকে আজকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যিনি এই ধরনের একজন শিল্পী।’
রনজিত পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী কফিল আহাম্মেদ বলেন, ‘রনজিত যে স্বপ্ন ও আকাঙ্খা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমি তিনি গড়ে তুলেছিলেন। তা আজ সার্থক। আমি নিজেও এই শ্রুতি সংগঠনকে দেখবার বুঝবার সুযোগ পেয়েছিলাম। এই সংগঠন তরুণ ও শিশুদের- আমি দেখেছি। আমি বিশ্বাস করি এই শ্রুতি থেকে বেড়ে উঠা এই তরুণরা ও শিশুরা আজ নানা দিকে নানাভাবে তাদের কাজ ও চিন্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
নাগরিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বী বলেন, আজকে এই সংগঠনের রনজিত উৎসবে যাকে পুরস্কৃত করার জন্য এখানে হাজির করা হয়েছে। সেই কফিল আহাম্মেদ হলেন সমাজ পরিবর্তনের ও মানুষের অনুকূল সমাজ গড়ার কাজে নিয়োজিত। আমরা আজকে তার সম্মানে আমরা নিজেরাও গর্বিত। তিনি আরও বলেন, আমরা এখান থেকে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আমরাই এই সমাজকে বদলে দেব। আমরা আমাদের নতুন মানুষ গড়ার কাজে আমরা নিয়োজিত হবো। আমরা কারো সঙ্গে আপোস না করে আমরা আমাদের কর্মে নিষ্ঠার সঙ্গে থাকবো এই প্রতিজ্ঞা করবো। শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমিকে আবারও শুভ কামনা জানাই।
স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন শ্রুতির উপদেষ্টা আব্দুর রহমান। পরে আলোচনা সভা, রনজিত পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ শ্রুতি পরিবার ও সুহৃদদের মঞ্চে আরোহনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।