রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৮ পিএম
রাঙামাটির জুরাছড়িতে দ্বিতীয় পর্যায়ে সোলার প্যানেল লাগানো হচ্ছে। প্রবা ফটো
এক বছর আগেও রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা ভাবেননি
তাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। সন্ধ্যা নামলেই নিভু নিভু কেরসিনের বাতি জ্বলা সেই
বাড়িগুলোতে এখন বৈদ্যুতিক বাতি। অনেক বাড়িতে চলছে টেলিভিশন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন
জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন এলাকায় বিনা মূল্যে সোলার প্যানেল (সৌরবিদ্যুৎ) বিতরণ
কর্মসূচির ফলে আলোকিত হচ্ছে প্রত্যন্ত পাহাড়ি
গ্রামগুলো।
বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুত ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ
বাস্তবায়নে ৯ জানুয়ারি থেকে রাঙামাটিতে সৌর প্যানেলের দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম
শুরু হয়। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যাক্রমে দ্বিতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের
আওতায় জুরাছড়ি উপজেলার জুরাছড়ি ইউনিয়নের ২৩৩টি, মৈদংয়ের ৪১৪টি ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের
৫১৯টি পরিবারকে এই সোলার প্যানেল দেওয়া হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা
গেছে, তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন এলাকায় বিনা মূল্যে সৌর প্যানেল
বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ব্যাটারী
ও বাতিসহ একটি করে ১০০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপন করে দেওয়া হচ্ছে।
উপকারভোগী দুদুকছড়ার রঞ্জন মুখী চাকমা বলেন, বছরখানেক
আগে তার স্বামী মারা গেছে। তখন থেকে অন্যের জমিতে কাজ করে বা দিনমজুরের কাজ করে
ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা চালাচ্ছেন। কেরোসিন কেনার টাকা থাকত না বলে প্রায় সময়
সন্ধ্যা নামলেই ঘুমিয়ে যেতে হতো। এখন আর সেই সমস্যা নেই, নেই কেরোসিন কেনার
চিন্তা। ছেলে-মেয়েরা অনেক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারে।
স্থানীয় হেডম্যান সম্রাট চাকমা বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ে মানুষ কখনো ভাবতে পারেনি সৌর বিদ্যুতের আলোর নিচে রাতে
সময় কাটাবে, টেলিভিশন দেখব। এখন পাহাড়ের বসবাসরত মানুষের কাছে এটা স্বপ্নের মতো
মনে হয়।’
জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমন
চাকমা বলেন, ‘ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সকল পরিবারকে সোলার
স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের
এমন উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞ তিনি।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ
বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার
প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার পরিবারকে বিনা মূল্যে
সোলার প্যানেল স্থাপন করে দেওয়া হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান
নিখিল কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার প্রান্তিক এলাকায়,
যেখানে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিশ বছরেও পৌছানো সম্ভব হবে না, সে সব গ্রাম
আলোকিত করতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় বিনা মূল্যে সোলার প্যানেল স্থাপন করে
দেওয়া হচ্ছে।
নিখিল কুমার চাকমা আরও বলেন, রাঙামাটির
জুরাছড়ি উপজেলায় প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস। সন্ধ্যা নামতেই ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে
সৌরবিদ্যুতের আলো, ভেসে আসে শিশুদের সমস্বরে বই পড়ার শব্দ। নিভু নিভু চেরাগ কিংবা
হারিকেনের আলো আর নেই। সৌরবিদ্যুতে চলছে টেলিভিশনও। অথচ গেল বছর ডিসেম্বরেও এই
দৃশ্যের কথা ভাবতে পারেনি কেউ। সৌরবিদ্যুতের কল্যাণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে দুর্গম
পাহাড়ের দৃশ্যপট।পাহাড়ি অঞ্চলে আরও সোলার প্যানেল প্রয়োজন। এ বিষয়ে
প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।