দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৪ পিএম
একসময় গ্রামগঞ্জের হাটবাজার বা খোলা মাঠের প্যান্ডেলে বসত পুতুলনাচের আসর। ছবি : সংগৃহীত
যুগের বিবর্তন, আকাশ সংস্কৃতি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সকল শ্রেণির মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম পুতুলনাচ ও মূকানৃত্য।
একসময় গ্রামগঞ্জের হাটবাজার বা খোলা মাঠের প্যান্ডেলে বসত পুতুলনাচের আসর। কোনো পার্বণেই কোথাও এখন আর দেখা মেলে না এর।
এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার একাধিক শিল্পী।
এখনও এ পেশায় জড়িত শিল্পী আব্দুল কুদ্দুস সরকার জানান, দুই থেকে তিন দশক আগেও গ্রামগঞ্জের হাটবাজার বা খোলা মাঠে মঞ্চ বানিয়ে দেখানো হতো পুতুলনাচ। রংবেরঙের হরেক পুতুল সাজিয়ে তার সঙ্গে সুতা বেঁধে হাতের কারুকাজের মাধ্যমে বাদ্যবাজনা ও গ্রামীণ নাচগানের সমন্বয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হতো একেকটি পালা।
‘রূপবান’, রাজকুমারী-রাজকুমার, পরীদের গল্প, ‘এক ফুল দুই মালী’, বেহুলা লখিন্দর, ‘সাগরভাসা’র মতো বিভিন্ন পালা তুলে ধরা হতো দর্শকদের সামনে।
দর্শকরা পালা দেখতে টিকিট কেটে প্যান্ডেলে ভিড় করত। এখন আর পুতুলনাচের সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না কোথাও।
দিনাজপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘যৌন হয়রানি, বাল্যবিয়ে, কুসংস্কার বন্ধসহ নানান কিছু বিষয় ফুটিয়ে তোলা এ নাটকের পুরো চরিত্রই একসময় ছিল পুতুলের। পুতুলনাচ ও মূকানৃত্য দেখতে আসত অনেকেই। প্রযুক্তির অপব্যবহার, আকাশ সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতির নামে মুনাফালোভী লোকজনের কারণে বিলুপ্ত হতে বসেছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম পুতুলনাচ।’
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সংস্কৃতির নামে জুয়াড়িদের হাত থেকে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমির উপদেষ্টা কানিজ রহমান বলেন, ‘আমরা এখনও চেষ্টা করছি এ ঐতিহ্য ধরে রাখার। সম্প্রতি দিনাজপুর পরিদর্শনে আসেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আমরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ ও মূকানৃত্যের আয়োজন করেছিলাম। তিনি খুশি হয়েছেন তা দেখে। লাকী ভাই এ শিল্প টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ বলেন, ‘দেশ উন্নয়নের এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। পরিবার থেকেই শিশুকে সংস্কৃতিমনা করে তুলতে হবে। ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপসংস্কৃতি রোধ করতে শিশুদের বেশি বেশি পুতুলনাচ ও মূকাভিনয়-মূকানৃত্য দেখাতে হবে।’