নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় তিতাস অফিস ঘেরাও করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রবা ফটো
গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয় ঘেরাও করেছে সাধারণ ভোক্তারা। এ সময় গ্যাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার নারীরা ঝাড়ু নিয়ে তিতাস কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় তিতাস অফিস ঘেরাও করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। এর আগে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সমবেত হন বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘গ্যাস নাই গ্যাস দে, দুর্নীতি ছাইড়া দে’ ও ‘গ্যাসের চুলায় গ্যাস নাই, মা-বোনদের ঘুম নাই’ স্লোগান দেন। আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা না করলে এবং তাদের দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
গ্যাস সংকটের কারণে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বিক্ষোভকারীরা। একজন বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারি না। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজ এবং কাজে না খেয়েই যায়। সারা দিন গ্যাস থাকে না। এর মধ্যে গ্যাস বিল বাড়িয়েছে। তাও পাই না গ্যাস।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘গ্যাসের জন্য আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। গ্যাস নাই অথচ বিল নিচ্ছে। বিল না দিলে লাইন কেটে দেয়। নারায়ণগঞ্জের মতো গ্যাসের সংকট আর কোথাও নেই। জেলায় অবৈধ গ্যাস লাইন দিচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। যার কারণে গ্যাস কম। তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা গ্যাস চাই আর কিছু চাই না। আমাদের দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাব।’
সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনতিবিলম্বে আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা না হলে তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে ভুক্তভুগী মা-বোনদের নিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। যতদিন পর্যন্ত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা না হয় এখানেই ততদিন পর্যন্ত মাটির চুলায় রান্না করব, অবস্থান করব এবং দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’
সংগঠনটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘গ্যাসের জন্য মানুষ ঠিক মতো রান্না করতে পারে না। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাওয়ার সময় নাস্তা দিতে পারে না। রাত জেগেও গ্যাসের অভাবে রান্না করতে পারে না। তাই তিতাস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, আপনাদের জটিল সমস্যা যদি থাকে অন্ততপক্ষে ভোর ৬টা থেকে বেলা ২ পর্যন্ত আমাদের গ্যাস দেন। তারপর রাত ৮টার পর থেকে আবার গ্যাস দেন।’
তিনি আরও বলেন, যদি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে হরতালের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে খানপুর, গলাচিপা, মাসদাইর, ভূইয়ারবাগ, আদর্শগ্রাম, নাগবাড়ি, বাবুরাইল, জল্লারপাড়, পাইকপাড়া, শহীদ নগরসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ শেষে তিতাসের মহাব্যবস্থাপক বরাবর স্থানীয় উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।