নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:০৫ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:২৬ পিএম
বিদায়ী সংবর্ধনায় কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মো. সেলিম হোসেন। প্রবা ফটো
'নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা মূল ভূখণ্ডের বাইরের একটা দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অনন্য জায়গা। প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। তবে এখানকার মানুষের আন্তরিকতা আমার সারাজীবন মনে থাকবে।'
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলা মিলনায়তনে বিদায় সংবর্ধনায় কথাগুলো বলছিলেন হাতিয়া উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম হোসেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সেলিম হোসেন বলেন, ‘দ্বীপ হাতিয়ার প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক। আমার কর্মজীবনের সেরা সঞ্চয় আপনাদের ভালোবাসা। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের অনেক রকমের সহায়তা আমি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনো নেতিবাচকভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখে সব কিছু দেখা যায় না। চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে। তবে নিজের অজান্তে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারও প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। হাতিয়ার মানুষ খুব আন্তরিক। আমি কোনোদিন তাদের ভুলতে পারব না।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কেফায়েত উল্যাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজে বেগম, জেলা পরিষদের সদস্য মহিউদ্দিন মুহিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।
অনুষ্ঠানের শেষে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রেস ক্লাব ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের নেতারা ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে ইউএনও সেলিম হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা জানান।
২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেলিম হোসেন। প্রায় দেড় বছরে ঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অসহায় মানুষের মাঝে দ্রুত সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি নিজস্ব তহবিল থেকে উপহার পৌঁছে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের। নিজস্ব তহবিল থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মাণ করেছেন আবাসন।