রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:২৫ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩০ পিএম
তৈরি জমিতে ধানের চারা রোপণ করছে এক কৃষক। প্রবা ফটো
উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের ধান চাষ করে বেশি ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকদের মাঝে বোরো চাষের আগ্রহ বেড়েছে। বোরো আবাদকে সামনে রেখে জমি তৈরি ও ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর কৃষকেরা। দুই ফসলি জমিতে আবাদ করা যাচ্ছে তিন ফসল। চলতি বছর জেলায় আবাদি বোরো ধানের ৯৮ ভাগই উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে ধানের দাম ভালো হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, গত বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছরও তারা বোরো ধানের আবাদ করেছেন। সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, দিনমজুরসহ যে খরচ হয় সে তুলনায় দাম ভালো পেয়েছিলেন তারা।
গত বছরের মতো এ বছরও ধানের দাম ভালো পাবেন এই আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা।
প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে তাদের খরচ হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি জমিতে ফলন পেয়ে থাকেন ২০ থেকে ২২ মণ। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার ধান বিক্রি করেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টরের মধ্যে ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর উফশী ও হাইব্রিড বোরো ধান আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। যা রোপণ কার্যক্রম চলছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। গতবারের তুলনায় ২ হাজার হেক্টর বেড়েছে। দেশি জাতের বোরো আবাদ হবে। এ পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ধান আবাদ হয়েছে জেলায়।
রাজবাড়ী জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ধান চাষি মাসুদ মুন্সি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিনি আগে দেশি জাতের ধান আবাদ করতেন বেশি । তবে লোকসানের কারণে গত দুই বছর ধরে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান আবাদ করছেন।
একই এলাকার আক্তার হোসেন বলেন, তিনি এ বছর বেশ কয়েক বিঘা উফশী ও হাইব্রিড ধান আবাদ করেছেন। এক বিঘা আবাদ খরচ আগের চাইতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেশি লাগছে। দেশি ধান আবাদ করলে খরচই উঠে না । তাই তিনি উফশী বোরো ধান আবাদ করেছেন সব জমিতে।
তাদের মতো আরও অনেক চাষিই এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান আবাদ করছেন।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম সহীদ নুর আকবর বলেন, চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টর বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড ৯০ ও ৯২ জাতের। দাম ভালো পাওয়া ও বর্তমানে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় কৃষকরা বোরো ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।