মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫২ পিএম
আটক ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। প্রবা ফটো
অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল ছিনতাই করত ‘রেনডম ফরহাদ’ চক্র। ছিনতাই করা মোবাইল নিয়ে যাওয়া হতো এক দোকানে। সেখানে নিয়ে পরিবর্তন করা হতো আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর। এরপর সেসব মোবাইল বিক্রি করা হতো বাজারে। প্রায় একদিন অভিযান চালিয়ে এই চক্রের প্রধানসহ তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টা থেকে শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) ভোররাত পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন চক্রের প্রধান মো. ফরহাদ উদ্দিন। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দি গ্রামের মো. শাহাব উদ্দিনের ছেলে। অপর দুজন মারুফ আহমদ হোসেনপুর উপজেলার হাজীপুর গাবরগাঁও গ্রামের গোলাম সোবহানের ছেলে এবং আরিফ আহমেদ রকি সদর উপজেলার ধনাইল গ্রামের দলিল উদ্দিন লিটনের ছেলে।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি মোবাইল ফোন, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, মোবাইল ফ্ল্যাশ সফটওয়্যার এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের বিভিন্ন ডিভাইস ও ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ এর সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. শাহরিয়ার মাহমুদ খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘রেনডম ফরহাদ’ ছিনতাইকারী চক্রের নেতৃত্ব দিতেন মো. ফরহাদ উদ্দিন। তার নেতৃত্বে চক্রটি দেশিয় অস্ত্র দিয়ে ঠেকিয়ে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে আসছিল। ছিনতাই করা মোবাইল তারা নিয়ে যেতেন জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার ইসলামীয়া সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শাম্মী টেলিকমে। ওই দোকানের মালিক আরিফ আহমেদ রকি। সেখানে নিয়ে মোবাইল ফ্ল্যাশ (মোবাইলের সম্পূর্ণ সফটওয়্যার মুছে ফেলা এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করা) করে আনলক করতেন। এরপর মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে তা বাজারে করত চক্রটি।
র্যাব কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার মাহমুদ খান জানান, চক্রের প্রধান ফরহাদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে। চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে প্রায় একদিন টানা অভিযান চালানো হয়। আটকদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হবে।