পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৩১ এএম
সংগৃহীত ছবি
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিক্ষুক, যৌনকর্মী, হিজরা ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উপদ্রব ব্যাপক বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
এ কারণে বিব্রত হতে হচ্ছে পর্যটকদের। এদের পাশাপাশি সৈকতে চেয়ার-ছাতা, স্পিডবোট, বিচ বাইক, ফটোগ্রাফার ও ঘোড়া ব্যবসায়ীদের হাতেও প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও দিন দিন বেড়েই চলেছে তাদের উৎপাত।
বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক ঘুরতে আসেন। তবে সৈকতে নিরিবিলি পরিবেশে শান্তি খুঁজতে এসে কেউ কেউ পড়ছেন বিপাকে।
খুলনা থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা রহিম আলী বলেন, ‘বিচে নামার আগেই পথ আগলে ধরে ফটোগ্রাফাররা। ছবি না তুললে কিছুতেই পথ ছাড়ে না তারা। স্থানীয় প্রশাসন যদি এসব ফটোগ্রাফার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তাহলে পর্যটকদের কুয়াকাটা বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটন আব্দুল কাইউম বলেন, সৈকতে ভাসমান যৌনকর্মীরা সমস্যা তৈরি করছে এতে পরিবার পরিজন নিয়ে অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আবদুর রহমান বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরপর ভিক্ষুকরা এসে টাকা চায়। একজনকে বিদায় করতে না করতে চলে আসে আরেকজন। প্রতি ঘণ্টায় ১০ জন ভিক্ষুক যদি ভিক্ষা চায়, তাহলে আমরা কি শুধু ভিক্ষা দিতেই ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় এসেছি?’
এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার মো. আবুল খায়ের বলেন, সম্প্রতি একাধিকবার এ সকল ভাসমান যৌনকর্মীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও বাইকার, ক্যামেরাম্যান ও হকারদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক সভা করেছি, যাতে তারা পর্যটক বান্ধব হয়।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। খুব দ্রুতই সৈকতে অতিরিক্ত ভিক্ষুকসহ নানাবিধ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এতদিন কেউ আমাকে অবহিত করেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।