চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৫ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:০৬ পিএম
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। প্রবা ফটো
নোয়াখালীতে স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এক যুবক। পরিবারের সঙ্গে জেদ করে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম। সেখানে পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে। সে নারীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় অভিযুক্ত হন যুবক। গ্রেপ্তারের পর ছয় মাস সাজা খেটে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান ওই যুবক। চলতে থাকে মামলার কার্যক্রম। বিচার শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তবে এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছেন ওই যুবক। এতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে পুলিশকে। সাজা কার্যকর করতে দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে গ্রেপ্তার করতে চট্টগ্রামের খুলশী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে গঠন করা হয় আলাদা টিম। সেই টিম অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পরই বেরিয়ে এসেছে বারবার তার পরিচয় পরিবর্তনের আদ্যোপান্ত।
খুলশী থানার সন্তোষ কুমার চাকমা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ২৯ জুন চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার এলাকার বাসিন্দা এক নারী তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় ওই যুবককে আসামি করা হয়। এজাহারে তার নাম দেওয়া হয় মো. সুবজ। ঠিকানা ফেনীর দাগনভূঞা থানার মুন্সি বাড়ি। বাবার নাম মো. আক্কাস।’
পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করেন খুলশী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছয় মাস কারাভোগ করেন আসামি। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। চলতে থাকে মামলার বিচার কার্যক্রম। বিচার শেষে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬। পলাতক আসামির সাজা কার্যকর করতে খুলশী থানাকে নির্দেশ দেন আদালত।
তার খোঁজ শুরু করে পুলিশ। সাজা কার্যকর করতে সবুজের (এজাহারে দেওয়া নাম) খোঁজে ফেনী যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সবুজের ঠিকানা সঠিক নয়। তখন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করে দেন ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা। পরে পুলিশ আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে। খোঁজাখুঁজি শেষে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর এলাকার ছাতিপট্টি এলাকার জুয়েলারি মার্কেটের সাধন বাবুর স্বর্ণের দোকানে পাওয়া যায় সবুজকে। মামলার বাদী আসামিকে শনাক্ত করেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামির তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় কারাভোগ শেষে কুমিল্লায় চলে আসেন তিনি। কাজ নেন সাধন বাবুর স্বর্ণের দোকানে। মো. সবুজ এখানে এসে বনে যান নারায়ণ। এই পরিচয় দিয়ে তিনি এখানে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তার প্রকৃত নাম সুপন চন্দ্র দেবনাথ। ঠিকানা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার রাখার কবিরাজের বাড়ি। বাবার নাম রাধা কৃষ্ণ দেবনাথ।
ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘আসামি বারবার নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। বাদীর কাছে নিজের নাম বলেছিলেন সবুজ। কুমিল্লায় স্বর্ণের দোকানে কাজ করার সময় নাম ব্যবহার করেছেন নারায়ণ। তার প্রকৃত নাম সুপন চন্দ্র দেবনাথ। গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রকৃত পরিচয় স্বীকার করেছেন। তাকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।’