রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:২৩ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:২৯ পিএম
ফাইল ফটো
রাজশাহীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সব মামলায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মামলাগুলো করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন। তিনি জানান, এ মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
মামলার আসামিরা হলেন- গোদাগাড়ী জোন-২ এর তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ খাবির উদ্দিন, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম, সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমান। এদের মধ্যে- হাসনুল রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কর্মরত আছেন। খাবির উদ্দিন গোদাগাড়ী থেকে নওগাঁর মান্দায় বদলি হয়েছিলেন, পরে সাময়িক বরখাস্ত হন। মতিউর রহমানও সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাসনুল গোদাগাড়ীতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন আয়-ব্যয় কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি বিল ভাউচারা পাশ, চেক ইস্যু এবং কর্তৃপক্ষের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় কোষাধ্যক্ষ ছিলেন খাবির উদ্দিন। তিনি ক্যাশ বই সংরক্ষণ, আয়-ব্যয়ের হিসাব লিপিবদ্ধকরণ, চেক প্রস্তুত ও লিপিবদ্ধকরণ, চেক রেজিস্টারে তথ্য রেকর্ডভুক্তকরণ ও সংরক্ষণ এবং ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারা দুজনে চেক টেম্পারিং করে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক গতবছর বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে।
চেকের কপি ও মুড়ি বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, খাবির উদ্দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য চেকে এবং চেকের মুড়িতে সমপরিমাণ টাকার অংক লিপিবদ্ধ করে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যাংকে চেকগুলো দেওয়ার আগে সুকৌশলে টাকার অংক পরিবর্তন করে নিতেন। চেকের মুড়ি অনুযায়ী টাকার অংক লেখার সময় বাম পাশে অতিরিক্ত জায়গা ফাঁকা রেখে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিতেন। পরবর্তীতে ইচ্ছামাফিক টাকার অংক পরিবর্তন করে নিতেন। ১৮০টি চেকে প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৪ টাকা তোলা যেত। এ প্রক্রিয়ায় কাটাকাটি বা ওভার রাইটিংয়ের মাধ্যমে টাকার অংক ও কথায় পরিবর্তন করে তোলা হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৫২ টাকা। খাবির উদ্দিন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম যোগসাজোশ করেই বিভিন্ন খাতের বিপরীতে অতিরিক্ত ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ টাকা তুলেছেন।
শুধু খাবিরের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গোদাগাড়ী জোন-২ এ কর্মরত থাকাকালীন তিনি মোবাইল ভেন্ডিং ইউনিটের (এমভিইউ) রিচার্জের বিপরীতে ডিলারদের প্রাপ্য কমিশনের ওপর আদায় করা আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৮ টাকা এবং মানি রশিদ বইমূলে আদায় করা ৫০ হাজার ৮৭০ টাকাসহ মোট ১১ লাখ ৩৯ লাখ ১১৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া তিনি এসব রশিদ বই গায়েব করে দেন।
তৃতীয় মামলার আসামি মতিউর রহমানও গোদাগাড়ী জোন-২ এ সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এমভিইউ রিচার্জের বিপরীতে ডিলারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কমিশনের ওপর প্রযোজ্য আয়কর ও ভ্যাটের অর্থ রশিদ মূলে আদায় করে বিএমডিএ এর সংশ্লিষ্ট খাতে জমা দেননি। এভাবে তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৩২২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মোহনপুর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে বলেন, আমি যথাযথভাবে চেক সই করতাম। সেই চেক নিয়ে যদি কেউ টেম্পারিং করে, তাহলে এর দায়তো আমার না। এ জন্য আমি কোনভাবেই দায়ী নই।