ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫১ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৪ পিএম
ভোলা নর্থ-২ কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। প্রবা ফটো
একের পর এক গ্যাসকূপের সন্ধান মিলছে দ্বীপজেলা ভোলায়। এতে নতুন করে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে দক্ষিণের এ জেলায়। এই খনিজসম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি গৃহস্থালি কাজেও গ্যাস ব্যবহারের নিশ্চয়তা চান ভোলার মানুষ। গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। তাই গ্যাস ভোলায় রাখতে চান জেলার মানুষ।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভোলা নর্থ-২ নামের নতুন একটি কূপে ৬২০ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাস রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ।
বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভোলা নর্থ-২ কূপে প্রাপ্ত গ্যাস মাটির ৩ হাজার ৪০০ মিটার নিচে রয়েছে, যা প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে ভবিষ্যতে আরও কূপ খনন হতে পারে। এরই মধ্যে আটটি কূপ খননের পর আটটি গ্যাস পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইলিশা-১ নামের আরও একটি কূপ খননের অপেক্ষায় রয়েছে।’
বাপেক্স জানায়, শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রের আটটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে, যার পরিমাণ ১ দশমিক ৫ টিসিএফ ঘনফুট। অষ্টম কূপ থেকে প্রতিদিন উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ২ কোটি ঘনফুট।
নতুন নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়ায় সম্ভাবনার দ্বার খুলছে এ জেলায়। গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন বিনিয়োগকারীরা। ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা ও আবাসিক লাইনে তা ব্যবহারের দাবি ভোলাবাসীর।
জেলার তরুণ সংগঠক আদিল হোসেন তপু বলেন, ‘এই গ্যাস সঠিকভাবে ব্যবহার হলে এখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। তাই এর সঠিক ব্যবহারের দাবি জানাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান বলেন, ‘আমরা চাই গৃহস্থালি কাজে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হোক। ভোলার গ্যাসের মাধ্যমে ভোলার উন্নয়ন সম্ভব।’
বাপেক্স জানায়, ২০১৮ সালের দিকে ভূ-কম্পন জরিপের মাধ্যমে ভোলা সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকায় গ্যাসের দ্বিতীয় খনির সন্ধান পায় সংস্থাটি। সেখানে রুশ কোম্পানি গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে একটি কূপ খননের পর গত বছরের ৫ ডিসেম্বর নতুন করে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতাগ্রামে আরেকেটি কূপ খনন করে বাপেক্স। এটি জেলার ৮ নম্বর কূপ। ২৩ জানুয়ারি ওই কূপ থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব বলে নিশ্চিত করে বাপেক্সের প্রতিনিধি দল। বর্তমানে এ কূপে ৬২০ বিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হয়। পর্যায়ক্রমে শাহবাজপুরে পাঁচটি, জেলার আরও চার স্পটে মোট আটটি কূপ খনন করে বাপেক্স। এখন পর্যন্ত জেলায় গ্যাস মজুদের পরিমাণ ১ দশমিক ৫ টিসিএফ ঘনফুট।