কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:০২ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৫ পিএম
সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া ছবি।
এবার কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। রবিবার (২২ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিএনপির ওই নেতার নাম মো. মাসুদ রানা। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগে রানা ছাড়াও রুমন মিয়া, স্থানীয় সাংবাদিক আমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী বিদ্যুতসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষকের দাবি, এক শিক্ষার্থীর নামে একাধিক ভর্তির আবেদন বাতিল করার ঘটনায় মাসুদ রানা তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে মারধর করে জখম করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে রবিবার মাসুদ রানার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। সোমবারও চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে বেশকিছু শিক্ষার্থী একাধিক নামে ভর্তির আবেদন করে। এরকম ৪২ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি চূড়ান্ত হলেও পরে তাদের ভর্তি বাতিল করে মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত।
আব্দুল হাই সিদ্দিকীর অভিযোগ, একই কারণে সন্তানের ভর্তি বাতিল হওয়ায় জেলা বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ কয়েকজন অভিভাবক রবিবার দুপুরে প্রধান শিক্ষকের কাছে আসেন। ভর্তি বাতিলের বিষয়ে কথা বলার সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকী এগিয়ে আসেন। এতে মাসুদ রানা তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে বিএনপির এই নেতা তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কক্ষের এক কোণায় নিয়ে যান। এ সময় কিলঘুষি মেরে বিভিন্ন স্থানে জখম করেন অভিযুক্তরা। এরপর তারা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ভর্তি বাতিল করিনি। মন্ত্রণালয়ের নিয়মে ওইসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। তারা আবেদন করবে ভালো কথা, কিন্তু তারা হেড ম্যাডামের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে, আর বারবার একটা কথাই বলছে আমরাই ভর্তি বাতিল করেছি। এটা শুনে আমি এসে কথা বলতে গেলে মাসুদ রানা বারবার আমাকে মারতে আসেন। বাকিটা আপনারা সিসিটিভির ফুটেজে দেখেছেন।’
ঘটনার বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অভিভাবকরা তাদের সন্তানের নামে একাধিক ভর্তি আবেদন করায় মন্ত্রণালয় ৪২ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে দেয়। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক কথা বলতে এসে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকী প্রতিবাদ করেন। এ সময় মাসুদ নামে এক অভিভাবক ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হন।’
একজন অভিভাবক জানান, সন্তানের ভর্তি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে যান মাসুদ রানা। এ নিয়ে শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনার ৫৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, আব্দুল হাই সিদ্দিকীর ওপর বারবার চড়াও হচ্ছিলেন মাসুদ রানা। মারতে উদ্ধত হলে পেছন দিকে সরে যাচ্ছিলেন শিক্ষক আব্দুল হাই। উপস্থিত লোকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করছেন। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘ওই শিক্ষক জিডি করেছেন। পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এর আগে ২১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় রোকনুজ্জামান রোকন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী রৌমারী সিজি জামান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নুরুন্নবী।