রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:১১ পিএম
টমেটো পাকার আগেই গাছ কালো ও লালচে রং ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রবা ফটো
রাজবাড়ীতে ঘন কুয়াশা ও ছত্রাকজনিত ভাইরাসের কারণে টমেটো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বেশিরভাগ ক্ষেতের টমেটো পাকার আগেই গাছ কালো ও লালচে রং ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে চাষিরা পড়েছেন লোকসানের মুখে।
এ বছর রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার মধ্যে সদর ও গোয়ালন্দের বরাট, দেবগ্রাম, ছোটভাকলা, উজনচড়, দৌলতদিয়া, মূলঘর ও সুলতানপুর ইউনিয়নের ফসলি জমিগুলোয় টমেটোর আবাদ বেশি হয়েছে। বেশি লাভের আশায় উচ্চফলনশীল লালতীর ও বিউটি কুইন জাতের টমেটো চাষ করেছিলেন চাষিরা।
জমি বর্গা নিয়ে বেশি দামে উচ্চফলনশীল এসব টমেটো আবাদ করার কয়েকদিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে টমেটোর গাছ নষ্ট হয়। সে সময় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তারা।
সিত্রাংয়ের প্রভাব কাটিয়ে না উঠতেই দেড় মাসের বেশি সময় ধরে টানা ঘন কুয়াশা ও ছত্রাকের কারণে আবার টমেটো ক্ষেত শুকিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গাছগুলো কালো ও লালচে রং ধারণ করে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে টমেটোর ফলন অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। এক বিঘা জমি বর্গাসহ টমেটোর চারা, কীটনাশক, সার ও দিনমজুর মিলে ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। গাছগুলো শুকিয়ে নষ্ট হওয়ায় ক্ষেত থেকে খরচের টাকাই ওঠার সম্ভাবনা নেই। কীটনাশক ব্যবহার করেও হচ্ছে না কোনো লাভ।
জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা গ্রামের রফিক মণ্ডল পদ্মা নদীর পাশে অবস্থিত ৫ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। প্রথম দিকে সিত্রাংয়ের কারণে টমেটো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবার টানা ঘন কুয়াশা শুরু হয়েছে।
এতে তার ৩ লাখ টাকা খরচে আবাদি ৫ বিঘা জমির টমেটো ক্ষেত এখন নষ্ট হতে শুরু করেছে। এখনও তিনি ক্ষেত থেকে কোনো টমেটো বিক্রি করতে পারেননি। ফলন কম হওয়ায় আর্থিকভাবে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।
পাশের এলাকার নয়নসুখ, গোপালবাড়ী, কাশিনগর গ্রামের কালাম মণ্ডল, সিরাজ সরদার ও আজাদ সেখ জানান, তারা এ বছর জমি বর্গা, বীজ, কীটনাশক, সার, চাষ, দিনমজুরসহ বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ করে টমেটো আবাদ করেছেন। অথচ ঘন কুয়াশা ও ভাইরাসের কারণে টমেটো পাকার আগেই গাছ মরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাতাগুলো কুকড়ে গেছে। এখন জমি থেকে টমেটো বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠবে না বলে লোকসানের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম সহীদ নুর আকবর বলেন, এ বছর উচ্চফলনশীল জাতের টমেটোর আবাদ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও ছত্রাকের কারণে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে টমেটো ক্ষেতগুলো।
ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।