রমেক হাসপাতাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৫ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৩ পিএম
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও ঘেরাও করে কর্মচারী সমিতি। প্রবা ফটো
দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে কর্মচারী সমিতি। একই দাবিতে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রবিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে ইন্টার্নরা। আর সকাল সাড়ে ১০টায় পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে কর্মচারীরা। দ্বিমুখী চাপে এদিন হাসপাতালে আসতে পারেননি পরিচালক।
কর্মচারী ও ইন্টার্নদের অভিযোগ, পরিচালক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। তবে পরিচালক ডা. শরীফুল হাসানের দাবি, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে হানা দেওয়ায় কুচক্রীরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।
আন্দোলনকারী চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি শাহীন ইসলাম বলেন, পরিচালক দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই নানা অজুহাতে কর্মচারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পরিচালক আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকা পকেটে ভরেছেন। এখন পরিচালকের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই হয় বদলি, নয়তো চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো হচ্ছে।
পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়ন, জেলা শাখার সভাপতি অক্সিজেন বাবু, রমেকের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মচারীদের আধিপত্যের কারণে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পদে পদে দালালদের টাকা দেওয়া, কর্মচারী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের আধিপত্য নিয়ে অতিষ্ঠ রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল প্রশাসন। কর্মচারী সিন্ডিকেটের কারণে চিকিৎসক-নার্সরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
দালাল ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রুখতে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন চিকিৎসকরা। ‘নিজ হাসপাতালে খোদ চিকিৎসকদেরই নিরাপত্তা নেই’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। এই সিন্ডিকেট রুখতে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ১৬ কর্মচারীকে রমেক হাসপাতাল থেকে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ২ অক্টোবর হাসপাতালের উপপরিচালকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। গত বছরের ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর হাসপাতাল পরিদর্শন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে রমেক হাসপাতালে কোনো ঠিকাদার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। সেই সঙ্গে হাসপাতালে কাজ না করা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি হাসপাতাল পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী অফিস সহায়ক মামুনুর রশীদ ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়নের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাসপাতালের স্বাভাবিক, স্পর্শকাতর, জরুরি বিভাগে জখমি সনদ প্রদান শাখা, অন্যান্য সরকারি কাজসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে বিধিবর্হিভূতভাবে হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তোলেন।
হাসপাতালেরে একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ইন্টার্নের ইন্টার্নশিপ শেষ হলেও তারা হাসপাতাল ছাড়ছে না। এতে পরিচালক ও ইন্টার্নদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কর্মচারী ও ইন্টার্নরা।
পরিচালক ডা. শরীফুল হাসান বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করায় হাসপাতালের বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মচারী অফিস সহায়ক মামুনুর রশীদ ও আশিকুর রহমান নয়নকে হাসপাতাল চত্বরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একটি আদেশনামা জারি করেছিলাম। আমি দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মচারী-ঠিকাদার সিন্ডিকেট ভেঙেছি বলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনিয়মতান্ত্রিক কাজে বাধা দেওয়ায় তারা আমার অপসারণ চাইছে। আমি যত দিন দায়িত্বে রয়েছি, তত দিন কাউকে অনৈতিক কাজের সুযোগ দেব না।