সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৩১ পিএম
মোগল আমলে নির্মিত সিলেটের প্রত্ননিদর্শন ‘দেওয়ানের পুল’ অর্ধেক ভাঙার পর বাকিটুকু ভাঙতে গণশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এই উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের কোষাধ্যক্ষ ছামির মাহমুদ বলেন, ‘দেওয়ানের পুল দেশের একটি প্রত্ননিদর্শন। সেতুটি ভাঙার বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। মোগল আমলে অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সেতুটি রক্ষা ও সংস্কার করা কর্তব্য।’
জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাউশা এলাকায় দেওরভাগা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে সেখানে নতুন সেতু বানাতে চায় এলজিইডি। কিন্তু গত ডিসেম্বর পুরোনো সেতুটি ভাঙা শুরু করলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভাঙা বন্ধ করে দেয় এলজিইডি। আগামীকাল রবিবার বেলা ১১টায় বাকি অংশ ভাঙার জন্য গণশুনানির উদ্যোগও নেন তারা। সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবীর বলেন, পুরোনো সেতু ভেঙে যুগোপযোগী একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে ভাঙার কাজ স্থগিত রাখা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গণশুনানি চলবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৫ জানুয়ারি গণশুনানির নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে এই গণশুনানিরও বিরোধিতা করেছেন অনেকে। গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অনুরঞ্জন দাস বলেন, ‘শ্রুতি আছে মোগল আমলে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়িতে যাওয়ার সময় দেওরভাগ খালের কাছে এসে বাধা পান মোগল দেওয়ান গোলাব রায়। পরে তিনি বর্তমান হেতিমগঞ্জ বাজার থেকে ঢাকা দক্ষিণ যাওয়ার বাইপাস সড়কে খালের ওপর সেতু নির্মাণের নির্দেশ দেন। এই সড়ক ও সেতু দেওয়ানের নামে পরিচিতি পায়।’