কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
উদ্ধার ভালুক শাবক ও গ্রেপ্তার দীপক দাস। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি রাখা বিপন্ন প্রজাতির দুটি ভালুক শাবকসহ আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার দীপক দাস চকরিয়া পৌরসভার দিগর পানখালী এলাকার বাসিন্দা।
এসপি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘দীপক দাসের বিরুদ্ধে আমদানি-রপ্তানি-নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী পাচারকাজে জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশের কাছে আগে থেকে তথ্য ছিল। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নজরদারি রাখে। একপর্যায়ে পুলিশ তথ্য পায় দীপক দাস সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বান্দরবান সীমান্তের চোরাইপথে দুই ভালুক শাবক পাচার করে এনে নিজ হেফাজতে রেখেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে চকরিয়া পৌরসভার দিগর পানখালী এলাকায় পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে সন্দেহজনক বাড়িটি ঘেরাও করলে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া দিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে বিপন্ন প্রজাতির দুটি ভালুক শাবক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ভালুক শাবক দুটির বয়স আনুমানিক দুই মাস। প্রতিটির ওজন এক কেজিরও বেশি।'
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার দীপক দাস একজন আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন বন্যপ্রাণী পাচারকাজে জড়িত। পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে বান্দরবান সীমান্তের চোরাইপথে আমদানি-রপ্তানি-নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী পাচার করে এনে নিজ হেফাজতে রাখতেন। পরে কিছুদিন রাখার পর অধিক মুনাফায় পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করতেন। সক্রিয় পাচার চক্রের সদস্যরা বাণিজ্য-নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করেন। উদ্ধার করা ভালুক শাবক দুটি ১৪ দিন আগে তিনি মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে পাচার করে এনে নিজ বাড়িতে রাখেন।
সম্প্রতি দীপক দাসসহ পাচার চক্রের সদস্যরা দুটি ভালুক, দুটি উল্লুক ও ছয়টি লজ্জাবতী বানর সীমান্তের চোরাইপথে ভারতে পাচার করেছেন বলে তথ্য পাওয়ার কথা জানান মাহফুজুল ইসলাম।
ভালুক শাবকসহ গ্রেপ্তার দীপক দাসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
আইইউসিএন বনায়ন ধ্বংস এবং বন্যপশু শিকারের কারণে ভালুকদের সংকটাপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশে কালো ভালুক মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত এবং বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ তফসিল-১ অনুযায়ী প্রজাতিটি সংরক্ষিত।