যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৬ পিএম
ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালিতে চলছে তিন দিনব্যাপী ফুল উৎসব। প্রবা ফটো
ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালিতে চলছে তিন দিনব্যাপী ফুল উৎসব। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ইউনিয়নের পানিসারা-হাড়িয়া ফুলবাগান মোড়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় এ উৎসবের।
মেলার প্রতিটি স্টল সাজানো হয়েছে নানা জাতের ফুলগাছ ও ফুল দিয়ে। ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ মেলা ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কেনছেন পছন্দের ফুল।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় ফুলের সঙ্গে বিদেশি জাতের ফুল চাষ হচ্ছে গদখালিত। সেই ফুল পরিচয় কারিয়ে দিতেই আমাদের এই উৎসবের আয়োজন। সাড়াও মিলেছে বেশ।’
আব্দুর রহিম আরও বলেন, ‘উৎসবের প্রথম দিন ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হলেও দ্বিতীয় দিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। আশা করছি শেষ দিন আরও ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে।’
ফুল চাষ এই এলাকার শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, অর্থনৈতিকভাবেও করেছে সমৃদ্ধ। আয়োজকরা বলছেন, ফুলের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের জন্যই এ উৎসবের আয়োজন।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, ‘নানান রঙের ফুল ও খেজুর গুড়ের জেলা যশোর। সে লক্ষ্যে যশোর জেলাকে তুলে ধরছে সরকার। যশোরের ফুলের ঐতিহ্য সুদীর্ঘকালের। তাইতো উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ ফুল উৎসব।’
১৯৮২ সালের দিকে গদখালিতে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধা ফুল চাষ শুরু করেন শের আলী সরদার। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই মেলা আমার কাজের স্বীকৃতি। ছোট পরিসরে অজানা এক শঙ্কা নিয়ে প্রথম সাহস করে ফুল চাষ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে সেই ফুল চাষ বাণিজ্যিক চাষে রুপ নিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছেন চাষিরা। যা কল্পনার বাইরে ছিল তখন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার ৭০ ভাগের বেশি যশোরের গদখালি থেকে সরবরাহ করা হয়। আশার কথা হলো- দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ফুল এখন যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াতেও। প্রথম দিকে বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস ফুল চাষ হলেও এখন প্রায় সারা বছরই চাষ হয়।’
ফুল চাষি হাজেরা খাতুন বলেন, ‘ফুল উৎসবে এত সাড়া পড়বে আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। এত মানুষ এসেছে। ফুল দেখছে। ক্রয় করছে। সত্যি ফুল চাষ করে আমরা স্বার্থক।’
আরেক চাষি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এতদিন ফুল বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছি। কিন্তু এই উৎসবের মাধ্যমে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ ক্ষেত থেকে ফুল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। ফুলের প্রতি তাদের ভালোবাসা দেখে আমাদের চাষ করতে যে কষ্ট হয়েছে তা ভুলে গেছি।’
মেলায় আসা দর্শনার্থী আফছানা আফরিন পাঁপড়ি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জীবনে অনেক মেলা দেখেছি। তবে ফুলের মেলা কখনও দেখা হয়নি। এত ফুল একসেঙ্গ শুধু ছবিতে দেখেছি। বাস্তবে দেখা হয়নি। আজই দেখলাম। সত্যিই ভাল লাগছে। ফুলের সৌন্দর্য আমাকে সবসময় আবেগী করে তোলে। তাইতো ফুলের মুগ্ধ নিতেই ফুল উৎসবে আসা।’
শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুন বলেন, ‘শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় আমারা ফুল উৎসবে এসেছি। এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। মাথার ব্যান্ড বানানো হয়েছে ফুল দিয়ে সেটি কিনেছি।’
আরেক শিক্ষার্থী ফারজানা মিতু বলেন, ‘আমার গোলাপ ফুল পছন্দ তাই দশটি গোলাপ কিনেছি। মাথার ব্যান্ড কিনেছি। ঘুরে দেখছি। খুব ভাল লাগছে।’