প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:৩৫ এএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:০৪ এএম
মো. শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ছবি: প্রবা
দীর্ঘ ১৭ বছর পর শিশুহত্যা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) চাঁদপুর শাহরাস্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আড়াইবাড়িতে রক্ত দিয়ে গোসলের হুমকি দিয়ে শিশু শাকিল হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেই মামলায় শওকতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব ২-এর সিনিয়র এএসপি মো. ফজলুল হক।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শওকত আলীসহ অন্য আসামিরা মিলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর রহমান শাকিলকে মারধর করে। শাকিলের মা এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তারা শাকিলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শাকিলের রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দেয়। এর জের ধরে ১৫ অক্টোবর রাতে শাকিল তারাবির নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে আসামি শওকত আলীসহ অন্য আসামিরা তাকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পায়ের রগ কেটে দেয় আসামিরা।
তিনি জানান, এ ঘটনায় কসবা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ১১ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেলা আদালতে বিচারের পরিবর্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যালে মামলাটি বিচারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ১১ জন আসামির মধ্যে ১ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জন আসামি পলাতক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শওকত আলী আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও তিনি পলাতক ছিল। তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে প্রথম আসামি। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শওকতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। হাইকোর্ট রায় ঘোষণার সময়ও অভিযুক্ত শওকত পলাতক ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শওকতকে।
র্যাব জানায়, শওকত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজের নাম পরিবর্তন করে প্রথমে ঢাকায় একটি লন্ড্রিশপে এবং পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কাজ করে আত্মগোপনে ছিল। সর্বশেষ চাঁদপুরে একটি বেকারিপণ্যের সেলসম্যানের কাজ করত।