চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১৬ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৪৫ পিএম
দুই সাংবাদিককে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকেরা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে বিএনপির কার্যালয় থেকে কয়েকজন কর্মীকে আটকের ভিডিও সাংবাদিকদের ক্যামেরার মেমোরি কার্ড থেকে মুছে দিয়েছে পুলিশ। এসময় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও আটকের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের কাজীর দেউরি এলাকার নাসিমন ভবনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। এতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নেতারা ও কর্মরত সাংবাদিকেরাও যোগ দেন। এসময় তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালী থানার ওসি জাহিদুল কবিরকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
হেনস্থার অভিযোগ তোলা দুই সাংবাদিক হলেন এনটিভির চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার আরিচ আহমেদ শাহ ও ভিডিও জার্নালিস্ট সুমন গোস্বামী।
ঘটনার বিষয়ে আরিচ আহমেদ শাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দুদকের অভিযানের অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করে অফিসে ফিরছিলাম। তখন পথিমধ্যে দেখলাম বিএনপি কার্যালয় থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে গাড়িতে তুলছিল। তা দেখেই আমাদের চিত্র সাংবাদিক সুমন গোস্বামী গাড়ি থেকে নেমে ভিডিও ধারণ করেন। এসময় সেখানে থাকা কোতোয়ালী থানার ওসি জাহেদুল কবির হঠাৎ আমাদের ভিডিও ক্যামেরা এবং ভিডিও থাকা মেমোরি কার্ডটি ছিনিয়ে নেয়। তখন মেমোরি কার্ড নেওয়ার কারণ জানতে চাই। প্রতিত্তোরে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠেন-দুই মিনিটের মধ্যে এখান থেকে চলে যাবেন। নয়ত আপনাদের আটক করব।’
এ বিষয়ে সাংবাদিক সুমন গোস্বামী বলেন, ‘হঠাৎ পুলিশের ওসি কেন এমন আচরণ করলেন, জানি না। আমরা গাড়ি থেকে নেমে শুধুমাত্র পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের ভিডিওটি ধারণ করেছি। তখন ওসি এসে আমার ভিডিও কেড়ে নেন। সেখান থেকে ভিডিও মুছে দিয়ে মেমোরি কার্ডটি নিয়ে নেন।’
সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, ‘এনটিভির দুই সাংবাদিক নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সব সাংবাদিক আসার পর ভিডিও ধারণের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তারা পুলিশের অুনরোধে কর্ণপাত না করে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এ কারণে ভিডিও ধারণের দৃশ্য মুছে দেওয়া হয়েছে।’