মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:২৬ পিএম
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় টিসিবি কার্ড তৈরি করতে গিয়ে এক নারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আরেক সংরক্ষিত ওয়ার্ড নারী সদস্যের বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চামটাঘাট উত্তরপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আলপিনা আক্তার করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ নম্বর সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য । নির্যাতনের শিকার মার্জিয়া আক্তার একই এলাকার উত্তরপাড়ার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার বসু অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগকারী মার্জিয়া আক্তার বলেন, ‘ছোট বোন সালমা অসুস্থ থাকায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ইউপি মেম্বার আলপিনার কাছে গিয়েছিলেন টিসিবি কার্ডের বিষয়ে কথা বলতে। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখেই আলপিনা রাগান্বিত হয়ে উঠেন। বলেন, তরা আমারে ভোট দিস নাই। আবার আমার কাছে তরার কী প্রয়োজন? এসব কথা বলেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে তাকে চর-থাপ্পড় মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটায় আহত করেন।’
মার্জিয়ার ছোট ভাই আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা জানি জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু এ কেমন জনপ্রতিনিধি! যিনি সেবা প্রত্যাশীদের গায়ে হাত তুলেন? এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
এলাকার স্থানীয়রা জানান, করোনাকালেও টিকা কার্ডের নামে তিনি অনেকের কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা করে নিয়েছেন। এ ছাড়া যারা তার পক্ষে নির্বাচন করেনি বা ভোট দেয়নি, তাদের সাথে সবসময়ই খারাপ আচরণ করেন।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলপিনা আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বরং তাকে মারধর করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি মোবাইল ফোনে জেনেছি। এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার বসু জানান, এ বিষয়ে একজন নারী এসে মৌখিকভাবে বিষযটি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।