মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২২ ১১:৪৮ এএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২ ১২:২৭ পিএম
মৌলভীবাজারে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ফাইল ফটো
‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে’ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে আপাতত ১২০ টাকা মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চা শ্রমিক ইউনিয়ন। রবিবার রাতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সঙ্গে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের বৈঠক হয়। এরপর যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা প্রমুখ।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মজুরি বাড়ানোর দাবি নিয়ে শ্রমিকরা দুর্গাপূজার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন। আর বাগান মালিকরা নিয়ম অনুযায়ী ধর্মঘটকালীন মজুরি শ্রমিকদের পরিশোধ করবেন।
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন দেশের ২৪১টি চা বাগানের প্রায় সোয়া লাখ শ্রমিক। প্রথম চার দিন তারা দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। ১৩ আগস্ট থেকে তারা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।
এ পরিস্থিতিতে গত ২০ আগস্ট শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শ্রমিক নেতারা। এতে দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে রোববার রাজপথে নামে।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার রাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ওই বৈঠক হয়। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সম্মান’ জানিয়ে ১২০ টাকা মজুরিতেই সোমবার থেকে কাজে যোগ দিচ্ছেন তারা।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে বিজয় ছাড়াও রয়েছেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহসভাপতি পঙ্কজ চন্দ্র, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালন্দি প্রমুখ।
এতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে চা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং-বি ৭৭ তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আগামীকাল ২২/০৮/২২ কাজে যোগ দেবে। আপাতত চলমান মজুরি অর্থাৎ ১২০/-(একশত বিশ) টাকা হারেই শ্রমিকরা কাজ করবেন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার জন্য চা শ্রমিক নেতারা আবেদন করেছেন, যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপিত হবে। চা শ্রমিকদের অন্য দাবিসমূহ লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য দাবিসমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন।’
প্রবা/এইচকে/এসআর