ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপনির্বাচন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:০৮ পিএম
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা। সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন নেতার পর এবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আরেক প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের দুবারের সংসদ সদস্য।
গত ১৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধাকে সিংহ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৭ জানুয়ারি তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই প্রতীক বদলে ডালিম প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে জিয়াউল হক মৃধা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। বিস্তারিত বিবৃতিতে উল্লেখ আছে।
জিয়াউল হক মৃধা বিবৃতিতে জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান পদে থেকে অত্র আসন হতে দুবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও বেগম রওশন এরশাদের সূচিত বহুমুখী উন্নয়নের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। তবে আসন্ন উপনির্বাচন পরবর্তী সংসদীয় মেয়াদকাল জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য খুব সংক্ষিপ্ত সময়।
আসন্ন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনের প্রচারণায় আমি আমার নির্বাচনী আসনের সম্মানিত ভোটারগণকে যে ওয়াদা এবং আশ্বাস দিয়ে ভোট প্রার্থনা করব, সংক্ষিপ্ত সময়ে সে ওয়াদা ও আশ্বাস বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত দুরূহ বলে আমি মনে করি। আমি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্মানিত ভোটারগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিতব্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার আসনের ভোটারগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ইনশাআল্লাহ জয়ী হয়ে আমার উন্নয়নের অসমাপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এ প্রেক্ষিতে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন হতে আমি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালাম। পরিশেষে আমার সমর্থক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী যারা সার্বক্ষণিক আমার সঙ্গে ছিলেন ও নির্বাচনী এলাকার আপামর জনগণের নিকট গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগের তিন নেতা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন ও শাহজাহান সাজু।
এর ফলে আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়ে গেলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ।
জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোতে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তারের জয়ের পথ আরও পরিষ্কার হলো বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি বিতর্কিত করতে সরকার সুকৌশলে আব্দুস সাত্তারকে উপনির্বাচনে আনার ছক কষেছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি বিতর্কিত করতে আব্দুস সাত্তারকে নির্বাচনে আনা হয়েছে। সরকার সেটা সফলভাবে করেছে। তাকে চাপ দিয়ে এই নির্বাচনে আনা হয়েছে।’
সংসদ থেকে পদত্যাগের পর আব্দুস সাত্তার একই আসনের উপনির্বাচনে লড়তে চাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ১১ ডিসেম্বর আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি এই আসনে ৫ বার এমপি ছিলেন।