দুই সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে গৃহবধূ
লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৪২ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৬ পিএম
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে দুই সন্তানসহ সুমী আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় তার স্বামী রাশেদুজ্জামান রাশেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে লালমনিরহাট জিআরপি থানা পুলিশ রাশেদকে লালমনিরহাট জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলী আদালত-৩-এ সোপর্দ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একইদিন বিকালে লালমনিরহাট ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সুমী আক্তার ও তাদের মেয়ে তাসমিরা তাবাসসুম তাসিনের ময়নাতদন্ত এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাওহীদ ইসলাম রাসিনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় করা মামলার আরেক আসামি রাশেদের মা রাশেদা খাতুন পলাতক আছেন।
জিআরপি থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলী ও পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান মোকছেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক কলহের জেরে গত শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন করলাটারী ঘুন্টিবাজার নামক এলাকায় দুই সপ্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন মা।
পাটগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, 'এলাকাবাসীকে নিয়ে রাতে তিন জনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।'
সুমীর বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মেয়ে ও নাতী-নাতনী মৃত্যুর ঘটনায় রাশেদ ও তার মা রাশেদা খাতুনকে আসামি করে জিআরপি থানায় একটি মামলা করেছি। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতেই পাটগ্রামের পাইকারেরটারী এলাকায় তাদের দাফন করা হয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু আমরা জানাজায় কেউ অংশ নিতে পারিনি।’
ওসি বলেন, ‘রাশেদকে শনিবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে সুমী আক্তার ও তার দুই সন্তানের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতে পাটগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।’