× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেওয়ারিশ লাশের শেষ ঠিকানা ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫৫ পিএম

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২১ পিএম

সম্প্রতি একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। ছবি : প্রবা

সম্প্রতি একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। ছবি : প্রবা

প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যেই প্রায় একশ রেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পরিচয়হীন লাশ আসলেই ডাক পড়ে এ সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের। তারাই এসব অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহ কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মো. আজহার উদ্দিন। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও চিকিৎসক সংগঠনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্তদের লাশ দাফনে সহায়তা করতেই তারা ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নামে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

এরপর থেকে এ পর্যন্ত তারা পরিচয়হীন ৮৭ জনের মরদেহের দাফনকাজ সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে ওই জেলায় স্বজনহীন লাশ দাফনে সংগঠনটি শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এ সংগঠনটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একাধিক ব্যক্তির লাশ দাফনেও সহায়তা করেছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করে সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর থেকে উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার লাশের দাফন করেন বাতিঘরের সদস্যরা। পৌর এলাকার মেড্ডা তিতাস নদীর পাড়ে লাশটি দাফন করা হয়।

মূলত ট্রেনে কাটা পড়ে ও মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া লাশগুলোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেওয়ারিশ হয়। এ ছাড়া মাঝে মাঝে বৃদ্ধ/বৃদ্ধা ও নবজাতকের লাশও পাওয়া যায়।

হাসপাতাল ও পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সদস্যরা লাশ দাফনের কাজে এগিয়ে আসেন। বেওয়ারিশ লাশ এলেই হাসপাতালের মর্গ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরকে আহ্বান জানান দাফন কাজ করে দেওয়ার জন্য। 

বাতিঘরের সদস্য মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানাজার নামাজ পড়ার দায়িত্বে থাকি। অন্য সদস্যরা কবর খোঁড়ারসহ কাফন-দাফনের দায়িত্ব পালন করেন। এমন কাজ করতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগে। যত ব্যস্তই থাকি চেষ্টা করি দাফনকাজে উপস্থিত থাকতে। সম্ভব না হলে অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে কাজটা করিয়ে দিই।’

বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, মূলত করোনায় মৃতদেহ ও বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্যই বাতিঘরের প্রতিষ্ঠা। করোনাকালীন করোনায় মৃতদের দাফনে স্বজনদেরকে বেগ পেতে হতো। দাফনের জন্য লোক পাওয়া যেত না। তখন আমরা এগিয়ে আসি। এখন নিয়মিত বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজ করি আমরা। 

সম্প্রতি একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। ছবি : প্রবা

তিনি বলেন, ‘নিজেদের টাকায় সব কিনে এখানে ব্যয় করা হয়। কবর খোঁড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে ফেলা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্র কাফনের কাপড় বাঁশ-দাড়িসহ অন্যসব কেনা হয়। এজন্য আলাদা আলাদা টিম রয়েছে। কেউ কবর খুঁড়বে, কেউ কাপড় কিনবে, কেউবা লাশ নেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, কেউ দাফনকাজে সহায়তা করবে। জানাজা পড়ানোর জন্যও একজনকে রাখা হয়েছে। আগে দিন রাতের যেকোনো সময় লাশ দাফনের কাজ করা হতো। তবে বিভিন্ন কারণে এখন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজের পাশাপাশি বিনামূল্যে রক্তদান ও অক্সিজেন সেবাসহ অসহায়দের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি।

এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের ইনচার্জ মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, ‘২-৩ বছর আগে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে পরিচয়হীন লাশের দাফনকাজ করা হতো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সংগঠনটি এখন আর দাফন কাজ করছে না। এ অবস্থায় বাতিঘরের মাধ্যমে লাশ দাফনের কাজ করা হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ফাইজুর রহমান ফয়েজ বলেন, ‘আগে হাসপাতালে আসা পরিচয়হীন লাশ দাফনে প্রায় সময়ই নানা সমস্যা দেখা দিত। এখন আর সেই অবস্থা নেই। পরিচয়হীন লাশের খবর পেলেই ছুটে আসেন বাতিঘরের সদস্যরা। বাতিঘরের উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার চেষ্টা থাকবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা