রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:২৩ পিএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৭ পিএম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক। প্রবা ফটো
দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ নজর রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও। এ দুইয়ের আদর্শ উদাহরণ হতে যাচ্ছে রাজশাহীতে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।
গত ১২ ডিসেম্বর নবনির্মিত এই হাইটেক পার্ক এলাকায় বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল মিউজিয়াম, জয় সিলিকন টাওয়ার এবং সিনেপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হাইটেক পার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহীতে আসলেই কর্মসংস্থানের অভাব ছিল। আমাদের যুব সম্প্রদায় যারা তারা কী কাজ করবে! রাজশাহীতে তেমন কোনো শিল্প কলকারখানাও গেড়ে ওঠেনি। কাজেই আজকে আমি মনে করি, রাজশাহীতে যে সিলিকল টাওয়ার করা হল সেখানে অনেকে ট্রেনিং নিতে পারছে। ট্রেনিং নিয়ে ঘরে বসেই কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে।’
২০১৮ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড কোর্ট বুলোনপুর এলাকায় পদ্মা নদী তীরবর্তী ৩১ একর জায়গার ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা নির্মাণসহ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশি বিদেশি কয়েটি আইসিটি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা ফ্লোর ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। ২০১১ রাজশাহীর জনসভায় হাইটেক পার্ক স্থাপনের কথা জানান বর্তমান সরকার প্রধান।
রাজশাহীর শেখ মুজিব হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক এ.কে.এ.এম ফজলুল হক বলেন, শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। অনেকগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি কম্পোনেন্টে উদ্বোধন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৮৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, ৩১ একর জায়গার মধ্যে ২০ একর পানি উন্নয়নের, কিছু গণপূর্ত বিভাগের। বাকি ২ দশমিক ৭১ একর জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় বলে জানতে পেরেছি। অবৈধভাবে যারা ছিল তাদেরকে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে পুনর্বাসনের জন্য। ব্যক্তিমালিকানায় থাকা আরও ৬ একর ডোবা জায়গা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ওই জায়গাটা আগামী দুই মাসের মধ্যেই আমরা অধিগ্রহণ করে নিতে পারবো।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, জয় সিলিকন টাওয়ার এবং শেখ কামাল আইটি ট্রের্নিং এন্ড ইনকিউবেটর সেন্টারে প্রায় ৩ লাখ স্কয়ার ফিট জায়গা আছে। ৮ থেকে ১০ টা প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছে। আরও প্রায় ৩ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা ফাঁকা রয়েছে। স্পেস এরিয়ার পাশাপাশি ৭টা প্লট আছে। যার মধ্যে একটি প্লট পাঁচতারকা হোটেলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপর একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে ডাটা মাইন্ড নামের ভারতীয় একটি আইটি প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন জানান, রাজশাহীতে কর্মসংস্থান একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। ফ্রিল্যান্সার এবং আইটি খাতের উদ্যোক্তারা এই স্থাপনার পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং আইসিটি খাতটি শিল্প খাত হিসেবে চিহ্নিত।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আইসিটি সেক্টর আয়ের একটা বড় খাত। সফটওয়্যার, গ্রাফিক্স ডিজাইন ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মধ্যে অন্যতম। এই খাতকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কের মাধ্যমে এক দিকে যেমন প্রযুক্ত খাতে প্রশিক্ষণ পাবে তরুণরা তেমনি এই পার্কে কর্মসংস্থান হবে ১৫ থেকে ২০ হাজার দক্ষ জনবলের।