নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:১৮ পিএম
গরু চুরি ঠেকাতে গগডা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৈঠক করেন স্থানীয়রা। প্রবা ফটো
বোরো মৌসুম শুরুর পর পরই নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় গবাদি পশু চুরি। স্থানীয়রা বলছে, গেল ২১ দিনে তাদের ১৭টি গরু ও দুটি ছাগল চুরি হয়েছে। নানা উদ্যোগ নিয়েও কমানো যায়নি চুরির উপদ্রব। এ অবস্থায় জরুরি বেঠক করেছেন গ্রামবাসী। বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, গ্রামে চিহ্নিত কোনো চোর রাখবেন না তারা।
গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় গগডা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই বৈঠক হয়। এতে গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
তিনি জানান, ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনে কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১০ জন কৃষকের ১৭টি গরু ও দুটি ছাগল চুরি হয়। এর মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর রাতে সিংহের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান ৬টি গরু চুরি হয়। আগের দিন দুটি গরু চুরি হয় উপজেলার ডাউকি গ্রামের নূর মোহম্মদ নয়নের। চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি উপজেলার রায়পুর গ্রামের শরীফুল মিয়ার ৫টি গরু ও একটি ছাগল চুরি হয়। এ ছাড়া আরও অনেকের গবাদি পশু চুরি হয়েছে। নিয়মিত পালাক্রমে পাহারা এবং স্থানীয় থানা পুলিশ ও গ্রামপুলিশের সমন্বয়ে ১৩টি ইউনিয়নের বিটভিত্তিক ৩৪টি কমিটি গঠন করেও এসব চুরি ঠেকানো যায়নি। আর তাই তারা জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে গ্রামটি নের্তৃত্বস্থানীয় লোকজনসহ শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, গ্রামে কোনো চিহ্নিত চোর থাকতে পারবে না। তবে কেউ যদি চুরি ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নেয়, সেই ব্যক্তিকে গ্রামে থাকতে বাধা দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গরু চুরি প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং গরু চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্যও চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কৃষকদের চুরি হওয়া গরু-ছাগল উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের কৃষক কাঞ্চন মিয়ার গোয়ালঘর থেকে চোরেরা প্রায় ৭০ হাজার টাকা দামের একটি গরু চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে জানু মিয়া নামের এক চোরকে ধরে ফেলে। এ সময় গরুটি উদ্ধার হয়। তবে অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন বুধবার কাঞ্চন মিয়া বাদী হয়ে আটক চোর জানু মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
বৈঠকে গগডা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ভূইয়া মজনু, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মজনু, ইউপি সদস্য হলুদ মিয়া, শিক্ষক আব্দুল কাইয়ূম ভূইয়া, শিক্ষক এখলাস উদ্দিন, ব্যবসায়ী জানু মিয়াসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।