বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১৯ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৫০ পিএম
প্রবা ফটো
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার আমতলী সুখদহ নদীর পাড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) এই আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। এ সময় বিশেষ করে ঘোড়ার পিঠে সাত বছরের শিশু হালিমার প্রাণবন্ত উপস্থিতি মুগ্ধ করে দর্শকদের।
আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুম শুরুর আগ-মুহূর্তে এবং নতুন খ্রিস্টাব্দকে বরণ করে নিতে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পঞ্চগড়, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ২৮ জন তাদের ঘোড়া নিয়ে এই আয়োজনে অংশ নেন। আজ চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৩ সাল থেকে সুখদহ নদীর তীরে সুখদহ মেলা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কোভিড মহামারির কারণে গত দুই বছর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার ফের এই আয়োজন শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের ঢল নামে। প্রতিযোগিতা উপলক্ষে পাশেই বসেছে মেলা। এতে মাছ, মাংস, মিষ্টি, ফার্নিচার, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা সামগ্রী এবং মৃৎশিল্পীদের তৈরি নানা রকম খেলনা ও প্রসাধনীর স্টল ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শুরুর পর মাঠের চারপাশে থাকা হাজার হাজার দর্শক ব্যাপক করতালির মাধ্যমে প্রতিযোগীদের স্বাগত জানায়।
নওগাঁর ধামুইরহাট এলাকা থেকে ঘোড়দৌড়ে অংশ নিতে এসেছেন দুই বোন তাসমিনা ও হালিমা। তাদের দুই বোনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। এতে বড় বোন তাসমিনার কাছে হেরে যান ছোট বোন হালিমা।
তাসমিনা বলেন, ‘আমি এবার এসএসসি পাস করেছি। সাত বছর বয়স থেকেই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি। এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কার পেয়েছি। এবারই প্রথম আমার ছোট বোন হালিমাও ঘোড়দৌড়ে অংশ নিল। ওকে বড় ঘোড়সওয়ার বানাতে চাই।’
বগুড়ার ধুনটের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন পাঁচটি ঘোড়ার মালিক। প্রতিযোগিতায় নিজের সব ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচটি ঘোড়া নিয়ে এসেছি। সবচেয়ে দ্রুতগতির ঘোড়াটির নাম সম্রাট। আশা করি, সম্রাট আমাকে প্রথম পুরস্কার এনে দেবে।’
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে আসা ঘোড়ার মালিক শামসুল হক বলেন, ‘এই পশু পালন করা অনেক ব্যয়বহুল। তারপরও গ্রাম বাংলার বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং মানুষকে সুস্থ বিনোদন দিতে পারাটাই আনন্দের।’
সিরাজগঞ্জ থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে এসেছিলেন নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। মাঝেমধ্যে এগুলোর আয়োজন করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আজকের খেলা দেখতে আমি ও আমার বন্ধুরা সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছি। দারুণ লাগছে।’
সারিয়াকান্দির নারচী এলাকা থেকে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার জামাই। প্রতিবছর সুখদহ মেলা উপলক্ষে এখানে আসি। দিন দিন বড় আয়োজনে ঘোড়দৌড় হচ্ছে। এমন আয়োজন অব্যাহত থাকুক এই কামনা করি।’
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য মোকছেদুল আলম বলেন, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে এলাকার ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। আত্মীয়-স্বজনরা মেলা উপলক্ষে গ্রামে আসে। গত দুই বছর করোনার কারণে প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারিনি। আশা করি, এখন থেকে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’ তিনি জানান, আজ প্রতিযোগিতার ফাইনালে অন্তত ৪০টি ঘোড়া অংশ নেবে।