পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:১৬ এএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:২৪ এএম
ঘন কুয়াশা আর মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বুধবার কুয়াশার পরিমাণ বেড়েছে। বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিপর্যয় নেমে এসেছে জনজীবনে। জরুরি ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। তবে জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে দেখা গেছে শ্রমজীবীদের।
কুয়াশার সঙ্গে জেলাজুড়ে বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। এতে শীতের প্রকোপ বেড়েছে।
গ্রামাঞ্চল এবং নদী এলাকাগুলোয় কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বেশি। যানবাহন চলতে দেখা গেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। মানুষের সঙ্গে পশুপাখিও কাবু হয়ে পড়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, সামনের দিনগুলোয় তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন থাকবে। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শীতের কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বেডের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ বেড়েছে জেলার দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের। কাজ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারে কাটছে অনেকের জীবন।
তবে শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে জেলা প্রশাসন পাঁচ উপজেলার শীতার্তদের মধ্যে ২২ হাজারের বেশি কম্বল বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে।