নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৪ পিএম
নাটোরের দত্তপাড়ায় জায়গার অভাবে মহাসড়কের পাশে হাট বসিয়েছেন কৃষকেরা। প্রবা ফটো
নাটোর শহরতলীর দত্তপাড়া হাটের সরকারি জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নিয়েছেন নাটোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তকাজে সহযোগিতা করার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।’
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মজিদ জানান, নাটোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া বাজারে প্রতিদিন নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেন কৃষকরা। বাজারের নির্ধারিত জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে রাখায় নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। রাস্তার পাশে বাজার হওয়ায় দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এই সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে তা আদালতের নজরে আসে। সংবাদটি বিশ্লেষণ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সরকারি জমিতে অনুমতি ব্যতিত স্থাপনা নির্মাণ করেছে অবৈধ দখলদারেরা। এটি ‘গর্ভরমেন্ট অ্যান্ড লোকাল অথারিটি ল্যান্ড এন্ড বিল্ডিং ১৯৭০’ এর ৭ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৬ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের ওই আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, এই অপরাধ কার কার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে তাদের বিস্তারিত নাম-ঠিকানা প্রাথমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিরূপণ ও শনাক্ত করা প্রয়োজন। তদন্তদের সময় আসামিদের শনাক্তকরণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, স্থাপনার স্থিরচিত্র, ভিডিওসহ ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র প্রস্তুত, সংশ্লিষ্ট সমস্ত কাগজ জব্দ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাট কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, ‘দত্তপাড়া হাটের নির্ধারিত জায়গায় হুসেন মিয়া, মোতালেব, শরৎ, নুর আলম পাকা দোকান করে দখল করে রেখেছে। এক একজনের একাধিক পাকা দোকান ঘর রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন জায়গা দখল করে অযথাই পরিত্যক্ত করে ফেলে রেখেছে। তারা নিজেও ব্যবসা করেন না। অন্যদেরও বসতে দেন না। দ্রুত প্রশাসন যদি এইসব জায়গা দখলমুক্ত করে দেন, তাহলে সবাই সুন্দরভাবে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবে।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পর দখলদার উচ্ছেদে নোটিশও দেওয়া হয়। তবে দলখদারেরা দখল না ছেড়ে নিজেদের স্থাপনা রক্ষায় নানা তৎপরতা শুরু করে।
দখলদার মোতালেব মিয়া জানান, নিয়মিত এখানকার পজিশন কেনাবেচা হয়। তিনিও জায়গা কিনে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
আরেক দখলদার নূর আলম জানান, আজ থেকে ৫০ বছর আগে তার বাবা গণি শিকদার ছাদ ঢালাই করে তিন রুম বিশিষ্ট দোকানঘর করেছিলেন। বাবা মারা যাবার পর তিনি সারের ব্যবসা করছেন। সরকারি জায়গায় দোকান থাকলেও এর বৈধতা সম্পর্কে জানেন না বলে জানান তিনি। আদালতের নির্দেশ সম্পর্কেও তারা অবগত নন বলে জানান।

নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ বলেন, ‘দত্তপাড়ায় অবৈধভাবে কেউ কেউ হাটের জায়গা দখল করে রেখেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যারা স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে হাটের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে তাদের উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে যারা সাধারণ ব্যবসায়ী তারা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সে ব্যাপারে আমরা প্রদক্ষেপ নিয়েছি। হাট কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে অবৈধ দখলকারীদের বাণিজ্যিক অবকাঠামো শনাক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে উচ্ছেদ নোটিশও দেওয়া হয়েছে। নিজ থেকে তারা সরে না গেলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের উচ্ছেদ করা হবে।’
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নাটোরের বিশেষ পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দত্তপাড়া বাজারের অবৈধ দখলদারত্বের বিষয়ে আদেশের কপি হাতে পেয়ে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তকাজে সহযোগিতা করার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’