গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:৩০ এএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম
নিহত রুবিনা আক্তার ও তার শিশুসন্তান জিহাদ। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে মা-ছেলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার (৯ জানুয়ারি) সন্দেহভাজন ছেলের বাবা ঝুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার বাসা থেকে নিহত রুবিনা আক্তার ও তার শিশুসন্তান জিহাদের মরদেহ ৭ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন রুবিনার বাবা সিরাজ মিয়া শিরু শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ বছর আগে ঝুমন রুবিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে রুবিনা তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশে বসবাস করে আসছিলেন। মেয়ের বাড়িতে বাবা সিরাজ মিয়া শিরুর পরিবারের লোকজন মাঝেমধ্যে যাতায়াত করত। রুবিনার সঙ্গে প্রায় তার স্বামীর পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। গত ৩ জানুয়ারি থেকে রুবিনা ও তার চার বছর বয়সী ছেলেকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। মা-ছেলে নিখোঁজের সপ্তাহখানেক আগেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। বাড়ির চারপাশে টিনের বেড়ার গেট তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে স্বজনরা ধারণা করেছিলেন রুবিনা ছেলেকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে গিয়েছে। ৭ জানুয়ারি বিকালে রুবিনার ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরে অপর পাশ দিয়ে বাড়িতে ঢুকে তাদের বসতঘরের দরজায় তালা লাগানো অবস্থায় দেখতে পায় সিরাজের পরিবারের সদস্যরা। সিরাজের কন্যা সেলিনা তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মা-ছেলের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় রুবিনার বাবা সিরাজ মিয়া শিরু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে গলাটিপে ও শ্বাসরোধ করে মেয়ে ও নাতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে রুবিনার স্বামী ঝুমনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আজ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে অবেদন করা হবে। তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় এ মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডা. শাফী মোহাইমেন জানান, হত্যার কিছু আলামত প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহের অংশবিশেষ রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।