× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টেকনাফের পাহাড় অপহরণকারী চক্রের অভয়ারণ্য

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:২৪ পিএম

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:৩৫ পিএম

ছবি: প্রবা

ছবি: প্রবা

কক্সবাজারের টেকনাফের বিস্তৃর্ণ পাহাড়ের গহীনে অভয়ারণ্য তৈরি করেছে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা। স্থানীয় বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে যাচ্ছে। সর্বশেষ রবিবার ভোরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং এলাকায় ক্ষেত পাহারারত চার কৃষককে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে গত চার মাসে ৩১ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা। আর ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। 

রবিবার ভোরে অপহৃতরা হলেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আব্দু সালাম, গুরা মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, রাজা মিয়ার ছেলে মুহিব উল্লাহ ও রাজা মিয়ার ছেলে আব্দুল হাকিম। 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, শনিবার রাতে পাহাড় থেকে বন্য হাতির দল ভুট্টা ক্ষেতে এসেছিল। তাদের পাহাড়ের দিকে তাড়িয়ে দিয়ে টং ঘরে এসে ঘুমিয়ে ছিলেন কৃষকরা। সেখান থেকে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। ক্ষেতে রক্তের দাগও দেখা দেখা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপহরণকারীদের তরফে কোনও ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। 

তিনি জানান, পাহাড় ঘিরে সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। এর আগেও অনেককে অপরহরণ করা হয়েছে। যারা বিভিন্ন অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফিরেছেন। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অপহৃতদের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মরিচ্যাঘোনা এলাকা থেকে চার জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে পালিয়ে আসার সময় গুলিবিদ্ধ হন হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকার মো. শাহজাহান ও মো. মেহেদী। অপর দুই জন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকার মৃত ওলা মিয়ার ছেলে নজির আহমদ এবং তার ছেলে সাদ্দাম হোসেন মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফেরেন দুই দিন পর। 

গত ৮ অক্টোবর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে আবছারকে (১৬) অপহরণের একদিন পর ছেড়ে দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আবছারের স্বজন সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী কিশোর হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার স্বজনরা কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। মুক্তিপণ দাবি করতে মোবাইল নাম্বারের জন্য দুবৃত্তরা আব্দুর রহমানের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরে ছেড়ে দেয়। 

১০ নভেম্বর টেকনাফের মহেশখালী পাড়া থেকে অপহৃত ১১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে এপিবিএন পুলিশ। এ সময় আটককৃতদের মধ্যে তিন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা ছিল। 

গত ১৮ ডিসেম্বর বিকালে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার একটি পাহাড়ের ভেতর খালে মাছ ধরতে গেলে অস্ত্রধারী একদল অপহরণকারী এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ আট জনকে অপহরণ করে। এরপর অপহরণকারীরা অপহৃতদের স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। 

ওই আট জন হলেন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ, ছৈয়দ আমিরের ছেলে মোস্তফা কামাল, তার ভাই করিম উল্লাহ, মমতাজ মিয়ার ছেলে মো রিদুয়ান, রুস্তম আলীর ছেলে সলিম উল্লাহ, কাদের হোসেন ছেলে নুরুল হক, রশিদ আহমদের ছেলে নুরুল আবছার ও নুরুল হকের ছেলে নুর মোহাম্মদ। 

এই আট জন অপহরণের তিন দিন পর ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছিলেন। অপহরণকারী চক্রের আস্তানা থেকে ফেরা এসব ব্যক্তি জানিয়েছেন, গহীন পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে অসংখ্য গুহা (সুড়ঙ্গ)। আর এসব গুহাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে তিন দিন পর মধ্যরাতে ঘরে ফেরা অপহৃত ওই আট জনের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 

পাহাড়ের যে খালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সেখান থেকে অনুমানিক ১০ কিলোমিটার ভেতরে রয়েছে এসব গুহা। সংঘবদ্ধ চক্রটিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় বাংলাদেশিরাও। গহীন পাহাড় হলেও সেখানে অপরাধী চক্রের প্রধানসহ কয়েকজন ব্যবহার করে ল্যাপটপসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা ডিভাইস। যে প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগাম তথ্য জানতে পারে চক্রটি। 

গহীন পাহাড়ে আস্তানা তৈরি করে অবস্থান নেওয়া অপরাধি চক্রের হাতে রয়েছে অসংখ্য ভারী অস্ত্র। তাদের সংখ্যা ২২ থেকে ২৫ জন হলেও অস্ত্রের সংখ্যা ঢের বেশি। পাহাড়ের বিভিন্ন গুহায় রাখা হয়েছিল অপহৃতদের। অপহরণকারীদের তিন জন ছাড়া সবাই মুখোশ পরিহিত ছিল। যে তিন জন মুখোশ পরেনি তারা রোহিঙ্গা। মুখোশ পরিহিতরা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলেছে এবং চক্রের প্রধানকে ‘মেজর’ বলে সম্বোধন করেছে। তারা বাংলাদেশি বলে মনে করেন অপহৃতরা। 

বাহাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, পাহাড় ঘিরে একটি অপরাধী চক্রের শক্ত অবস্থান রয়েছে। যারা গত চার মাসে বাহারছড়া ইউনিয়নের ১৫-২০ জনকে অপহরণ করেছে। এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান দেখা গেছে। এটা যেন অব্যাহত থাকে। 

গত ১০ অক্টোবর কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ জানান টেকনাফের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করছে। এতে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটা থামাতে বিশেষ অভিযান প্রয়োজন। 

এর মধ্যেই রবিবার নতুন করে আরও চার জনকে অপহরণ করা হয়েছে। টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন মজুমদার বলেন, পরিবারগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওসি আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলের আশেপাশে অভিযান চালাচ্ছে। 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, অপহরণের পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। কখনও পাহাড়ের পূর্ব পাশে হ্নীলা ইউনিয়ন, আবার কখনও পাহাড়ের পশ্চিম পাশের বাহারছড়া ইউনিয়ন থেকে এসব ঘটনা ঘটে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের সব ঘটনায় অপহৃত বা তাদের স্বজনরা মামলা করতে আগ্রহী হয় না। মামলা নাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে সেগুলো পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িতদের আস্তানা শনাক্ত করে অভিযানও চালানো হচ্ছে। অনেকেই গ্রেফতার হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা