গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:০৬ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা ও শিশু সন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত নারীর স্বামী ঝুম্মন মাওনাকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (এসিআই গেইট) সংলগ্ন নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মৃত রুবিনা আক্তার উপজেলার পশ্চিম খণ্ড এলাকার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী ঝুম্মন মাওনার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। তিনি এখানে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। কাজের সুবাধে স্ত্রী ও চার বছর বয়সি ছেলে জিহাদকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চার দিন ধরে রুবিনা ও তার ছেলে জিহাদের খোঁজ পাচ্ছিল না স্বজনরা। আজ বিকালে তাদের ঘরের তালা ভেঙে এক স্বজন দুজনের মরদেহ দেখতে পায়।’
রুবিনা আক্তারের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর আগে ঝুম্মনের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় থাকতেন ঝুম্মন। এক সপ্তাহ আগে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর পর গত চার দিন ধরে রুবিনা ও তার ছেলে জিহাদকে না দেখতে পেয়ে খোঁজ শুরু করে স্বজনরা।
তিনি জানান, রুবিনাদের বাড়ির চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া। টিনের বেড়ার বাইরে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে স্বজনরা ধারণা করে রুবিনা ও তার সন্তান কোথাও বেড়াতে গেছে। শনিবার সকালে রুবিনার ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। টিনের বেড়া টপকে ভেতরে ঢুকে স্বজনরা দেখে ঘর তালাবদ্ধ। রুবিনার ছোট বোন তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে রুবিনা ও তার ছেলের অর্ধগলিত মরদেহ।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মরদেহ দুটি অর্ধগলিত থাকায় সুরতহাল করে কোনো কিছু বোঝা যাচ্ছে না। মরদেহগুলোর পাশেই বিরিয়ানির একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সঙ্গে কেউ কোনো কিছু মিশিয়ে তাদের হত্যা করেছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’