মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:৫৮ পিএম
পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিলল রেকর্ড পরিমাণ টাকা। ছবি : প্রবা
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর ২০ বস্তায় সর্বোচ্চ ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দিনভর গণনা শেষে রাতে এই হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।
মসজিদের দান সিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর এটাই সর্বোচ্চ দানের টাকা। সাধারণত তিন মাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়। এবার দানবাক্স খোলা হয়েছে ৩ মাস ৬ দিন পর। শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় আটটি দানবাক্স খুলে ২০ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। প্রথমে টাকাগুলো বস্তায় ভরে মেঝেতে ঢালা হয়। পরে গণনার কাজ শুরু হয়। টানা ১০ ঘণ্টা টাকা গণনার পর এবার সর্বোচ্চ টাকা পাওয়া গেছে।
মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়।’

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, দেশের দূর দূরান্ত থেকে দানকারীরা বিভিন্ন নিয়ত নিয়ে মসজিদে আসেন। দানকারীরা বলে থাকেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়। বিষয়টির কারণেই এখানে দান করার জন্য বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ মসজিদে আসেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এবার সর্বোচ্চ দান চার কোটি টাকা অতিক্রম করায় ভালো লাগছে। কারণ পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণ করার প্রকল্প ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে পরিগণিত হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার নারীর জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।’
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘পাগলা মসজিদ দানের টাকা দান বাক্সের মাধ্যমেই গ্রহণ করা হয়। কেউ যেন প্রতারণার সুযোগ নিতে না পারে সবাইকে মসজিদের সিন্দুকে সরাসরি দানের আহ্বান জানান। মসজিদের পক্ষ থেকে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক হিসাবে টাকা নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। এবার গণনা শেষে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হবে।’
দানবাক্স খোলার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহাকারী কমিশনার অহনা জিন্নাত, শেখ জাবের আহমেদ, সুলতানা রাজিয়া, সহকারী কমিশনার মোছা. নাবিলা ফেরদৌস, মো. মাহমুদুল হাসান, রওশন কবীর, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদ কমপ্লেক্সের অবস্থিত মাদ্রাসার ১১২ জন ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
গত বছরের ১ অক্টোবর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১৫ বস্তা টাকা। দিনভর গুণে পাওয়া যায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। তখন ৩ মাস ১ দিনে এই টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের আটটি দানবাক্সে। এ ছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।
টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।